করধার্য আয় – নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “অ্যাকাউন্টিং থিউরি” বিষয়ের “আয়কর” বিভাগের একটি পাঠ। আয়কর, বহিঃশত্রুর হাত হতে দেশ রক্ষা, অভ্যন্তরীণ শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনসাধারণের কল্যাণের জন্য সরকারকে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। এই অর্থ যে সমস্ত উৎস হতে সংগ্রহ করা হয় তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলো আয়কর।
Table of Contents
করধার্য আয়

আয়কর ধার্যের উদ্দেশ্যে আয়কে প্রথমত দু’ভাগে ভাগ করা হয়। যথা- (১) করধার্য-আয় এবং (২) অকরধার্য-আয়। করদাতার বিভিন্ন প্রাপ্তি হতে অকরধার্য বা কর বহির্ভূত আয় বাদ দেয়ার পর যে আয় অবশিষ্ট থাকে তাকে করধার্য-আয় বলে। অন্য কথায় বলা যায় যে, যে সকল আয় করদাতার মোট আয় নির্ণয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয় তাকে করধার্য-আয় বলে। যেমন, মূল বেতন, গৃহ-সম্পত্তির আয়, ব্যবসায় হতে আয় ইত্যাদি। করধার্য-আয়কে আবার তিন ভাগে ভাগ করা যায় :
(i) করমুক্ত আয়।
(ii) রেয়াতযোগ্য আয় ।
(iii) কর প্রদেয় আয়।
(i) করমুক্ত আয় (Tax-free Income ) :
যে সকল আয় করদাতার মোট আয় নির্ণয় এবং করের হার নির্ণয় এবং করের হার নির্ণয়ের জন্য মোট আয়ের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং পরবর্তীতে এর উপর গড় হারে কর রেহাই পাওয়া যায় ঐ আয়কে করমুক্ত আয় বলে। যেমন, ব্যক্তি সংঘের আয়, অংশীদারি কারবারের আয় ইত্যাদি।
(ii) রেয়াতযোগ্য আয় (Tax Credit Income) :
যে সকল আয় করদাতার মোট আয়ের অন্তর্ভুক্ত অংশ কিন্তু কর দায় নির্ণয়কালে উক্ত আয়ের উপর নির্দিষ্ট হারে রেয়াত বা ছাড় পাওয়া যায় ঐ আয়কে রেয়াতযোগ্য আয় বলে। যেমন- জীবন বীমার প্রিমিয়াম, শেয়ার বা ঋণপত্রে বিনিয়োগ, সরকারি এবং অনুমোদিত ভবিষ্যৎ তহবিলে চাঁদা ইত্যাদি। বর্তমানে এই আয়ের উপর ১০% হারে রেয়াত পাওয়া যায়।

(iii) কর প্রদেয় আয় (Chargeable Income) :
করদাতাকে প্রকৃতপক্ষে যে আয়ের উপর কর পরিশোধ করতে হয় তাকে কর প্রদেয় আয় বলে। মোট আয় হতে রেয়াতযোগ্য ও করমুক্ত আয় বাদ দিলে যা থাকে তাই কর প্রদেয় আয় ।
