উৎপাদন ব্যয় বিবরণী | উৎপাদন ব্যয় ও আর্থিক হিসাববিজ্ঞান, উৎপাদন ব্যয়ের উপাদানসমূহের বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহকারে সপ্তাহ, মাস বা বছর শেষে কোন দ্রব্য বা সেবার যে ব্যয় তালিকা প্রস্তুত করা হয় তাকে উৎপাদন ব্যয় বিবরণী (Production of Cost Sheet) বলা হয়। এই বিবরণী হতে উৎপাদনের জন্য কি পরিমাণ কাঁচামাল, শ্রম, উপরিব্যয়, উৎপাদন ব্যয়, মোট ব্যয় এবং কি পরিমাণ মুনাফা হয় তা পৃথকভাবে জানা যায় ।
উৎপাদন ব্যয় বিবরণী | উৎপাদন ব্যয় ও আর্থিক হিসাববিজ্ঞান | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

উৎপাদন ব্যয়-বিবরণীতে ব্যয়সমূহের তুলনামূলক বিশ্লেষণ থাকে বিধায় বর্তমান ও অতীত বছরের উৎপাদনের দক্ষতা বিচার করা যায় এবং একই ধরনের অন্যান্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যয়ের সাথে তুলনা করতে সহায়ক হয়। হিসাব আকারে উৎপাদন-ব্যয় বিবরণী উপস্থাপন করা হলে তখন তাকে উৎপাদন হিসাব (Manufacturing A/C / Production A / c) বলা হয়।
আমেরিকান পদ্ধতি এবং ব্রিটিশ পদ্ধতিতে উৎপাদন ব্যয-বিবরণী প্রস্তুত করার নিয়ম প্রচলিত রয়েছে। এই পদ্ধতি দু’টিতে উৎপাদন ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত দফা নিয়ে মতান্তর পরিলক্ষিত হয়। আমেরিকান পদ্ধতিতে মুখ্য ব্যয়ের সাথে কারখানা উপরিব্যয় যোগ করে উৎপাদন ব্যয় নির্ণয় করা হয়। অর্থাৎ প্রশাসনিক উপরিব্যয় উৎপাদন ব্যয়ের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না আমেরিকান উৎপাদন ব্যয় হিসাববিদগণ প্রশাসনিক উপরিব্যয় উৎপাদনের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এই যুক্তিকে প্রাধান্য দিয়ে প্রশাসনিক উপরি ব্যয় উৎপাদন ব্যয়ের সাথে অন্তর্ভুক্ত না করার পক্ষপাতি।
পক্ষান্তরে, ব্রিটিশ পদ্ধতিতে মুখ্য ব্যয়ের সাথে কারখানা উপরিব্যয়সহ প্রশাসনিক উপরিব্যয় যোগ করে উৎপাদন ব্যয় নির্ণয় করা হয়। প্রশাসনিক উপরিব্যয়ের মধ্যে উৎপাদন, বণ্টন, বিক্রয়, গবেষণা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ইত্যাদি খরচ যুক্ত থাকে। তাই উৎপাদন সংক্রান্ত খরচের অংশ কারখানা উপরিব্যয়ের মধ্যে ধরা হয় এবং বাকি অংশ বিক্রয় খরচের (Cost of Sales) মধ্যে ধরা হয়। প্রশাসনিক উপরিব্যয় বিভিন্ন খাতের মধ্যে যুক্তিযুক্ত বণ্টন বাস্তবে কষ্টসাধ্য বিধায় ব্রিটিশ উৎপাদন ব্যয় হিসাববিদগণ প্রশাসনিক উপরিব্যয়কে উৎপাদন ব্যয়ের আওতায় হিসাবভুক্ত করার পক্ষপাতি। তবে ছাত্র-ছাত্রীগণ উভয় পদ্ধতিতে অঙ্ক করলে শুদ্ধ হবে। অত্র পুস্তকে অধিকাংশ উদাহরণ আমেরিকান পদ্ধতিতে করা হয়েছে।
যে সকল আইটেম উৎপাদন ব্যয়-বিবরণীতে আসে না :
নিম্নলিখিত আইটেমসমূহ উৎপাদন ব্যয় হিসাবে আসে না-
আয়কর, অনুদান, প্রাপ্ত নগদ বাট্টা, লভ্যাংশ প্রদত্ত বা প্রাপ্ত, সম্পত্তি বিক্রয়ের ক্ষতি, মূলধনের সুদ, ঋণের উপর সুদ, শেয়ার বাট্টা, সুনাম অবলোপন, অবলেখকের দস্তুরি, প্রাথমিক খরচ, দুর্যোগ, অগ্নিকাণ্ড, দুর্ঘটনা, ঝড়, বন্যা ইত্যাদি অস্বাভাবিক কারণে ক্ষতি। কোন দাতব্য প্রতিষ্ঠানে চাঁদা, কারখানা বন্ধ বা ধর্মঘটের কারণে অস্বাভাবিক ব্যয়, চুক্তি আইন ভঙ্গের জন্য প্রদত্ত জরিমানা, পরিচালকের ফি, অনাদায়ী পাওনা সঞ্চিতি ইত্যাদি।

তবে পরিচালক (ব্যবস্থাপনা), পরিচালক (অর্থ ও হিসাব), পরিচালক (প্রশাসন), পরিচালক (মার্কেটিং বা বিপণন), অনাদায়ী পাওনা এগুলো উৎপাদন ব্যয় হিসাবে আসবে। প্রদত্ত বাট্টা অনেকের মতে আসে অনেকের মতে আসে না।
