বিভিন্ন বাট্টার ব্যাখ্যা | নগদান বই, চুক্তি অনুসারে বা প্রচলিত নিয়মানুসারে প্রাপ্য বা প্রদেয় টাকার পরিমাণ এবং স্বাভাবিক মূল্য থেকে যে অংশ বাদ দেওয়া হয় তাই বাটা।
Table of Contents
বিভিন্ন বাট্টার ব্যাখ্যা | নগদান বই | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

বিভিন্ন বাট্টার ব্যাখ্যা
বাট্টার প্রকারভেদ :
বাট্টা প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
(ক) প্রাপ্ত বাট্টা (Discount Received) ও
(খ) প্রদত্ত বাট্টা (Discount Allowed)
(ক) প্রাপ্ত বাট্টা:
পণ্যের ক্রয়মূল্য এবং প্রদেয় কোন অর্থ পরিশোধকালে যে পরিমাণ অর্থ কম দেওয়া হয় তাকে প্রাপ্ত বাট্টা বলে । যেমন ৫,০০০.০০ টাকার পণ্য বিক্রয় করে ৪,৮০০০.০০ টাকা গ্রহণ করা হল । এখানে ২০০.০০ টাকা আমাদের প্রদত্ত বাট্টা।
আবার হিসাবভুক্তির দিক থেকে বাট্টাকে আরো তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-
(১) নগদ বাট্টা (Cash Discount)
(২) কারবারি বাট্টা (Trade Discount)
(৩) পরিমাণ বাট্টা (Quantity Discount)।
(১) নগদ বাট্টা (Cash Discount) :
নগদ অর্থের লেনদেনকালে উদ্ভূত বাট্টাকে নগদ বাট্টা বলে। সাধারণত পণ্যের মূল্য বা প্রাপ্য অর্থ যথাসময়ে বা তৎপূর্বে আদায়কল্পে নগদ বাট্টা প্রস্তাব করা হয়। এ সুযোগ গ্রহণ করা ক্রেতা বা দেনাদারের ইচ্ছাধীন। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রদেয় অর্থ পরিশোধ করে দেনাদার নগদ বাট্রার সুযোগ গ্রহণ করতে পারে।
নগদ বাট্টার প্রস্তাব দেওয়ার ক্ষেত্রে বাট্টা হার, বাট্টা সুযোগ গ্রহণের সময়সীমা এবং প্রদেয় অর্থ প্রদানের সর্বশেষ সময় ইত্যাদি উল্লেখ থাকে। যেমন- ৪/২০ নীট ৩০, অর্থাৎ প্রদেয় অর্থ ২০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করলে ৪% নগদ বাট্টা পাওয়া যাবে। এবং ৩০ দিনের মধ্যে অবশ্যই সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করতে হবে। কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নগদ বাট্টা পেতে পারে আবার প্রদান করতে পারে। উভয় বাট্টাই তিনঘরা নগদান বইতে লিপিবদ্ধ করা হয়। প্রদত্ত বাট্টা ডেবিট এবং প্রাপ্ত বাট্টা ক্রেডিট করা হয়।
(২) কারবারি বাট্টা (Trade Discount) :
মূল্য তালিকায় উল্লিখিত পণ্যের নির্দিষ্ট মূল্যে সর্বত্র পণ্য বিক্রি করার জন্য সাধারণত উৎপাদক পাইকারী ব্যবসায়ীকে এবং পাইকারী ব্যবসায়ী খুচরা ব্যবসায়ীকে নির্দিষ্ট হারে কিছু টাকা ছেড়ে দেয়। এভাবে পণ্যের লিখিত মূল্য থেকে যে পরিমাণ অর্থ ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে কারবারি বাট্টা বলে। তালিকামূল্য থেকে কারবারি বাট্টা বাদ দিয়ে প্রাপ্য বা প্রদেয় অর্থ নির্ধারণ এবং হিসাবভুক্ত হয়। অর্থাৎ কারবারি বাট্টা কখনও হিসাবভুক্ত হয় না।
যেমন একটি বই-এর মূল্য ছাপানো আছে ২০০ টাকা, গ্লোব লাইব্রেরী যদি বইটি পাইকারী পুস্তক ব্যবসায়ীকে এবং পাইকারী ব্যবসায়ী যদি খুচরা পুস্তক ব্যবসায়ীকে ২০০ টাকাতেই বইটি বিক্রয় করে তবে পাইকারী এবং খুচরা ব্যবসায়ী কারো কোন লাভ হবে না। এক্ষেত্রে গ্লোব লাইব্রেরী হয়ত বইটি পাইকারকে ১৫০ টাকায় আবার পাইকার হয়ত খুচরা ব্যবসায়ীকে ১৭০ টাকায় বইটি বিক্রয় করবে। প্রথম ক্ষেত্রে ৫০ টাকা এবং দ্বিতীয় ক্ষেত্রে ৩০ টাকা কারবারি বাট্টা।

(৩) পরিমাণ বাট্টা (Quantity Discount) :
ক্রেতাকে পণ্যের প্রতিবারের ক্রয়ের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে স্বাভাবিক কারবারি বাট্টা প্রদানের পর যে পরিমাণ অতিরিক্ত মূল্য রেয়াত দেয়া হয়, তাকে পরিমাণ বাট্টা বা Quantity Discount বলে। এটিও এক প্রকার কারবারি বাট্টা। পরিমাণ বাট্টা উৎপাদক পাইকারি বিক্রেতাকে অথবা পাইকার খুচরা বিক্রেতাকে প্রদান করে থাকে।
কারবারি বাট্টার সাথে এর পার্থক্য হচ্ছে, কারবারি বাট্টা নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রব্যসামগ্রী ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রদান করা হয়ে থাকে, কিন্তু নির্দিষ্ট পরিমাণ হতে অতিরিক্ত মূল্যের দ্রব্যসামগ্রী ক্রয়ের ক্ষেত্রেই শুধুমাত্র পরিমাণ বাট্টা প্রদান করা হয়ে থাকে। অর্থাৎ, যে ক্রেতা প্রতিবার যত বেশি পরিমাণে দ্রব্যসামগ্রী ক্রয় করবে, সে তত বেশি এ বাট্টার সুবিধা ভোগ করবে। যেমন : বড় লাক্স সাবান কিনলে মিনি লাক্স ফ্রি ।
পরিমাণ বাট্টা প্রদানের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে অধিক পরিমাণে দ্রব্যসামগ্রী ক্রয়ে পাইকারি অথবা খুচরা কারবারিকে উৎসাহিত করা।
