জাবেদাভুক্তির নিয়ম | জাবেদা | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

জাবেদাভুক্তির নিয়ম | জাবেদা, কারবারের দৈনন্দিন লেনদেন সংঘটিত হওয়ার পর উক্ত লেনদেনগুলোকে দুই তরফা দাখিলা পদ্ধতির বর্ণিত নীতি অনুযায়ী হিসাবের প্রাথমিক বই জাবেদায় লিপিবদ্ধ করার প্রক্রিয়াকে জাবেদায়ন বা জাবেদাভুক্তিকরণ বলে। জাবেদাভুক্তি বা জাবেদায়নের নিয়ম নিচে বর্ণিত হলো :

জাবেদাভুক্তির নিয়ম | জাবেদা | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

 

জাবেদাভুক্তির নিয়ম | জাবেদা | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

 

(১) জাবেদার ছক :

লেনদেনগুলোকে জাবেদাভুক্ত করার আগে জাবেদায় পাঁচ ঘর বিশিষ্ট ছক আঁকতে হবে। প্রত্যেকটি ঘরের শিরোনাম পূরণ করতে হবে।

(২) তারিখ লেখা :

জাবেদার ছকের প্রথম ঘরে প্রত্যেক লেনদেনের তারিখ ক্রমানুসারে লেখতে হবে।

(৩) হিসাবখাত নির্ণয় :

লেনদেন দ্বারা প্রভাবিত হিসাবখাত দুটির মধ্যে কোন্ হিসাবটি ডেবিট এবং কোন হিসাবটি ক্রেডিট হবে তা হিসাববিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত নিয়ম অনুযায়ী ঠিক করে জাবেদার ছকের দ্বিতীয় ঘরে লেখতে হবে। 

(৪) ডেবিট/ক্রেডিট উপস্থাপন :

ডেবিট হিসাব খাতটিকে জাবেদার বিবরণ কলামে প্রথম লাইনে বসাতে হবে। ক্রেডিট হিসাব খাতটি দ্বিতীয় লাইনে একটু ডানদিক হতে আরম্ভ করতে হবে। ডেবিট হিসাব খাতটির ডানদিকে ডেবিট এবং ক্রেডিট হিসাব খাতটির ডানদিকে ক্রেডিট কথাটি লেখতে হবে।

 

(৫) লেনদেনের ব্যাখ্যা :

লেনদেনের ডেবিট ও ক্রেডিট পক্ষের হিসাব খাত লেখার পর নিচে প্রত্যেকটি লেনদেনের প্রকৃতি এবং ডেবিট ও ক্রেডিট হিসাব খাতসমূহ প্রভাবিত হওয়ার কারণসহ বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে হবে। লেনদেনের সমর্থনে ব্যাখ্যাদান ছাড়া জাবেদার কাজ শেষ হয় না। 

(৬) খতিয়ান পৃষ্ঠা নম্বর লেখা :

জাবেদাভুক্ত হিসাবখাত দুটি খতিয়ানের কত নম্বর পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে তা ছকের তৃতীয় ঘরে খতিয়ান পৃষ্ঠার শিরোনামের অধীনে লিপিবদ্ধ করতে হবে। খতিয়ান পৃষ্ঠা নম্বর অনুযায়ী প্রয়োজনে লেনদেনগুলোর বিস্তারিত তথ্য অনায়াসে পাওয়া যায়। 

(৭) টাকার পরিমাণ লেখা :

জাবেদার চতুর্থ ঘরে ডেবিট টাকার পরিমাণ ও পঞ্চম ঘরে ক্রেডিট টাকার পরিমাণ লেখতে হবে ।

(৮) সমান্তরাল রেখা টানা :

ব্যাখ্যাসহ এক একটি লেনদেন লিপিবদ্ধ করার পর নিচে সমান্তরাল লাইন টেনে বিবরণের ঘরের এক প্রান্ত হতে অপর প্রান্ত পর্যন্ত বদ্ধ করতে হবে এবং পরবর্তী লেনদেন উক্ত লাইনের নিচ থেকে শুরু করতে হবে। 

 

জাবেদাভুক্তির নিয়ম | জাবেদা | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

 

(৯) স্থানাস্তর :

একাধিক পৃষ্ঠায় জাবেদা করা হলে প্রত্যেক পৃষ্ঠার টাকার অঙ্ক যোগ করে যোগফল পরবর্তী পৃষ্ঠায় স্থানান্তরিত করতে হবে। এক্ষেত্রে ডেবিট ও ক্রেডিট ঘর পৃথক পৃথকভাবে যোগ করতে ববে।

(১০) সমাপ্তিসূচক রেখা :

ডেবিট ও ক্রেডিট টাকার ঘরের যোগফল শেষে দুটি সমান্তরাল লাইন টেনে সমাপ্তিসূচক চিহ্ন দিতে হবে। যদিও টাকার ঘরের টাকা অনেক সময় যোগ করা হয় না। তবু টাকার ঘর যোগ করা বাঞ্ছনীয়। 

 

Leave a Comment