জাবেদার উদ্দেশ্য | জাবেদা | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

জাবেদার উদ্দেশ্য | জাবেদা, হিসাব চক্রের প্রথম ধাপ জাবেদা। জাবেদাকে হিসাবরক্ষণের প্রাথমিক বইও বলা হয়। আবার, খতিয়ান হিসাবসমূহ পাকাপাকিভাবে প্রস্তুত করার জন্য জাবেদা সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এ কারণে জাবেদাকে সহায়ক বইও বলা হয়। আবার কেউ কেউ জাবেদাকে দৈনন্দিন বই বা ধারাবাহিক হিসাবের বইও বলে থাকেন। অতএব, যে নামেই জাবেদাকে সংজ্ঞায়িত করা হোক না কেন, যেসব উদ্দেশ্য সাধনের জন্য জাবেদা প্রস্তুত করা হয় তা নিচে বর্ণিত হল :

জাবেদার উদ্দেশ্য | জাবেদা | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

 

জাবেদার উদ্দেশ্য | জাবেদা | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

 

(১) লেনদেনকে প্রাথমিকভাবে হিসাবভুক্ত করা :

কোন লেনদেন সংঘটিত হওয়া মাত্র এটি তারিখ অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে লিপিবদ্ধ করাই জাবেদার প্রধান উদ্দেশ্য। কারণ লেনদেনসমূহের এরূপ হিসাবভুক্তির ফলে কারবারের মালিককে স্মৃতিশক্তির উপর নির্ভর করতে হয় না।

(২) লেনদেনের কারণ অবগত হওয়া যায়:

জাবেদায় লেনদেনসমূহ সংঘটনের কারণসহ প্রয়োজনীয় বিবরণ লিপিবদ্ধ করা হয়, যাতে ভবিষ্যতে প্রতিটি লেনদেনের প্রকৃতি সহজে অনুধাবন করা যায় । 

(৩) খতিয়ান হিসাব প্রস্তুতকার্য সহজীকরণ :

জাবেদায় প্রতিটি লেনদেন বিস্তারিত বিবরণসহ লিপিবদ্ধ হওয়ায় খতিয়ান হিসাব প্রস্তুতকালে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদানের প্রয়োজন হয় না। ফলে সংক্ষিপ্ত, নির্ভুল পরিচ্ছন্নভাবে খতিয়ান প্রস্তুত করা সম্ভব হয়। বিশেষ করে জাবেদা প্রস্তুত না করে কারবারের দৈনন্দিন অসংখ্য লেনদেন তৎক্ষণাৎ ডেবিট / ক্রেডিটে বিশ্লেষণ করে সরাসরি খতিয়ানের সংশ্লিষ্ট হিসাব খাতসমূহে লিপিবদ্ধকরণ অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও কষ্টসাধ্য। আর তাই খতিয়ান-হিসাব প্রস্তুতকার্য সহজীকরণকল্পে সংঘটিত লেনদেনসমূহ সর্বপ্রথম জাবেদায় লেখা হয়।

 

(৪) খতিয়ান লেখার নির্ভুল তথ্য পরিবেশন :

জাবেদায় প্রতিটি লেনদেনকে ডেবিট ও ক্রেডিট দুটি সত্ত্বায় বিশ্লেষণপূর্বক লিপিবদ্ধ করায় লেনদেনের বিষয়ে কোনরূপ বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় না। তদুপরি জাবেদা প্রস্তুত করা হলে কোন লেনদেন ভুল হিসাবে ভুল অঙ্কে লিপিবদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে হ্রাস পায় ।

(৫) দক্ষতার ভিত্তিতে হিসাবরক্ষণ কাজ বণ্টন :

বিভিন্ন প্রকৃতির লেনদেনসমূহ জাবেদার শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন সহকারী জাবেদা বইতে লিপিবদ্ধ করার ফলে দক্ষতা অনুযায়ী শ্রম বিভাগের ভিত্তিতে হিসাবরক্ষকগণকে কাজে নিয়োজিত করা যায় । এতে কাজে দক্ষতা বাড়ে, সময় সাশ্রয় হয় এবং নির্ভুলভাবে হিসাবরক্ষণ কাজ সম্পাদিত হয়।

(৬) কারবারের দৈনন্দিন আর্থিক পরিস্থিতি অবহিতকরণ :

কারবারের প্রতিদিনকার মোট লেনদেনের সংখ্যা ও পরিমাণ অবহিত করা জাবেদার অন্যতম উদ্দেশ্য। কারবারের দৈনিক নগদ আদান-প্রদান ও ধারে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত উদ্ভূত দেনা-পাওনার বিস্তারিত আর্থিক তথ্য তারিখের ক্রম অনুসারে অবহিত করা জাবেদার অন্যতম উদ্দেশ্য।

 

জাবেদার উদ্দেশ্য | জাবেদা | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

 

(৭) ভুল সংশোধনে সহায়ক :

খতিয়ান প্রস্তুতকরণে কোথাও কোন ভুল হলে কিংবা রেওয়ামিল এবং চূড়ান্ত হিসাব প্রস্তুতকালে কোথাও এতটুকু সংশয় ও সন্দেহের অবকাশ থাকলে কিংবা ভুল সংশোধনের প্রয়োজন কোন কারণে অমিল হলে দেখা দিলে জাবেদা সর্বাত্মক সহায়ক ভূমিকা পালন করে। 

(৮) লেনদেনসমূহকে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ :

জাবেদার উদ্দেশ্যই হচ্ছে, লেনদেনের তাৎক্ষণিক ফলাফল তারিখ অনুসারে। স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা, যাতে ভবিষ্যৎ রেফারেন্সের জন্য কাজে লাগে।

Leave a Comment