হিসাবের শ্রেণিবিভাগ | হিসাব লিখন বা দাখিলা পদ্ধতি, দু’তরফা দাখিলা পদ্ধতি মোতাবেক হিসাবের ডেবিট এবং ক্রেডিট সঠিকভাবে নির্ণয় করতে হলে হিসাবের শ্রেণিবিভাগ সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবহিত হওয়া প্রয়োজন। হিসাবের শ্রেণিবিভাগের ক্ষেত্রে সাধারণত দুটি পদ্ধতি বিরাজমান। যথা-
(১) সনাতন পদ্ধতি বা প্রচলিত পদ্ধতি (Traditional Method);
(২) আধুনিক পদ্ধতি বা সমীকরণ পদ্ধতি (Modern Method or Equation Method)।
Table of Contents
হিসাবের শ্রেণিবিভাগ | হিসাব লিখন বা দাখিলা পদ্ধতি | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

সনাতন পদ্ধতি (Traditional Method): সনাতন পদ্ধতিতে হিসাবকে প্রধান দু’ভাগে ভাগ করা যায় । যথা-
(ক) ব্যক্তিবাচক হিসাব (Personal Account);
(খ) অব্যক্তিবাচক হিসাব (Impersonal Account)।
নিচে ছকের মাধ্যমে সনাতন পদ্ধতিতে হিসাবের শ্রেণিবিভাগ উপস্থাপন করা হল :
ব্যক্তিবাচক হিসাব (Personal Account) :
ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত হিসাবকে ব্যক্তিবাচক হিসাব বলে। ব্যবসায়ে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাথে দৈনন্দিন যেসব লেনদেন হয়, সেসব লেনদেনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেকের নামে এক একটি হিসাব রাখা হয় । যেমন— ফাহিম হিসাব, গ্রামীণ ব্যাংক হিসাব, কমার্স কলেজ হিসাব ইত্যাদি ট্রেডার্স হিসাব । ব্যক্তিবাচক হিসাবকে দুভাগে ভাগ করা যায় :
১। দেনাদার হিসাব (Debtors Accounts);
২। পাওনাদার হিসাব (Creditors Account)
১। দেনাদার হিসাব (Debtors Accounts) :
কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট আমাদের ব্যবসায়ের পাওনা থাকলে উক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হিসাবকে দেনাদার হিসাব বলে। যেমন— ফাহিমের নিকট ধারে বা বাকিতে ১০,০০০ টাকার পণ্য বিক্রয়।
২। পাওনাদার হিসাব (Creditors Account) :
কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট আমাদের ব্যবসায়ের দেনা থাকলে উক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হিসাবকে পাওনাদার হিসাব বলে। যেমন— সোহেবের নিকট হতে ৫,০০০ টাকার মাল ধারে ক্রয় করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সোহেব আমাদের ব্যবসায়ের একজন পাওনাদার। প্রকৃতি অনুসারে ব্যক্তিবাচক হিসাবকে তিনভাগে ভাগ করা যায়—
(i) স্বাভাবিক ব্যক্তিবাচক হিসাব :
কোন ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট হিসাবকে স্বাভাবিক ব্যক্তিবাচক হিসাব বলে। যেমন— আফজাল হিসাব, তারিন হিসাব ইত্যাদি।
(ii) আইনসৃষ্ট বা কৃত্রিম ব্যক্তিবাচক হিসাব :
আইনের মাধ্যমে সৃষ্ট কোন প্রতিষ্ঠান কিংবা যেকোন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত হিসাবকে কৃত্রিম ব্যক্তিবাচক হিসাব বলে। যেমন— ইসলামী ব্যাংক লিঃ হিসাব, ঢাকা কলেজ হিসাব, কাকলী ট্রেডার্স হিসাব, সমতট লিঃ ইত্যাদি ।
(iii) প্রতিনিধিত্বমূলক ব্যক্তিবাচক হিসাব :
লেনদেন সংশ্লিষ্ট যে হিসাব কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করে (যেমন— বকেয়া ও অগ্রিম আয়-ব্যয় সংক্রান্ত হিসাব, ঋণ হিসাব, মূলধন হিসাব) সেই হিসাবকে প্রতিনিধিত্বমূলক ব্যক্তিবাচক হিসাব বলে। উদাহরণস্বরূপ : অগ্রিম বেতন হিসাব, বকেয়া মজুরি হিসাব, সোহেলের ঋণ হিসাব ইত্যাদি । এছাড়া ব্যক্তির নাম উহা থাকলেও মূলধন হিসাব, উত্তোলন হিসাব ব্যক্তিবাচক হিসাবের অন্তর্গত। এই হিসাব দুটির অন্তরালে ব্যবসায়ের মালিক নামক ব্যক্তির সত্তা প্রচ্ছন্নভাবে জড়িয়ে আছে।

(খ) অব্যক্তিবাচক হিসাব (Impersonal Account) :
ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পর্কিত নয় এমন সকল হিসাবকে অব্যক্তিবাচক হিসাব বলে। এ হিসাবকে দুভাগে ভাগ করা যায়। যথা—
(i) সম্পত্তিবাচক হিসাব:
যে কোন বস্তু বা সম্পত্তি সংক্রান্ত হিসাবকে সম্পত্তিবাচক হিসাব বলে। যেমন- যন্ত্রপাতি হিসাব, আসবাবপত্র হিসাব, নগদান হিসাব, বিনিয়োগ হিসাব ইত্যাদি। ব্যবসায়ের প্রত্যেক প্রকার সম্পত্তির জন্য এক একটি পৃথক হিসাব রাখা হয়।
(ii) নামিক হিসাব বা আয়-ব্যয়বাচক হিসাব:
ব্যবসায়ের লাভ-লোকসান, আয়-ব্যয়সংক্রান্ত হিসাবকে আয়-ব্যয় বাচক বা নামিক হিসাব বলে। এ হিসাবকে আবার দুভাগে ভাগ করা যায়। যথা— ব্যয় সংক্রান্ত হিসাব; আয় সংক্রান্ত হিসাব। অর্থাৎ ব্যবসায়ের প্রত্যেকটি আয় ও ব্যয়ের জন্য এক একটি পৃথক হিসাব খোলা হয়। যেমন——
(ক) ব্যয়সংক্রান্ত হিসাব :
মজুরি হিসাব, বেতন হিসাব, বিজ্ঞাপন হিসাব, মনিহারি হিসাব।
(খ) আয়সংক্রান্ত হিসাব :
বিনিয়োগের সুদ হিসাব, প্রাপ্ত কমিশন হিসাব, প্রাপ্ত বাড়িভাড়া হিসাব, শিক্ষানবিস সেলামি হিসাব।
