হিসাবের উদ্দেশ্য | হিসাব লিখন বা দাখিলা পদ্ধতি, হিসাবের ইংরেজি ‘Account’ শব্দটি ফরাসি শব্দ Accounter হতে এসেছে বলে অনেকে অভিমত প্রকাশ করেন। ফরাসিরা গণনা করা বা হিসাব রাখা অর্থে Accounter শব্দটি ব্যবহার করতো। ইংরেজিতেও Account শব্দটি হিসাব বা হিসাবখাত বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। আভিধানিক অর্থে হিসাব বা Account বলতে জমা- খরচের বিবরণীকে বুঝায়। হিসাববিজ্ঞানের ভাষায় সমজাতীয় লেনদেনের বিবরণী বা তালিকাকে হিসাব বলা হয়।
Table of Contents
হিসাবের উদ্দেশ্য | হিসাব লিখন বা দাখিলা পদ্ধতি | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

(১) স্থায়ী রেকর্ড :
হিসাব খাতের মাধ্যমে লেনদেনসমূহ সংক্ষিপ্তাকারে স্থায়ী রেকর্ড রাখা হয়। ফলে যে-কোন সময়ে যে-কোন হিসাব সমস্যা মিটানো সহজতর হয়।
(২) . মোট দেনা-পাওনা নির্ণয় :
সুষ্ঠুভাবে হিসাব সংরক্ষণ করলে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নিকট কারবারের মোট দেনা ও পাওনা নির্ণয় করা যায়।
(৩) নগদ তহবিল :
আধুনিক কারবারি জগতে নগদ অর্থের গুরুত্ব অপরিসীম। নগদ তহবিল ব্যবস্থাপনার জন্য সব সময় নগদ অর্থের পরিমাণ নির্ণয় করা একমাত্র সঠিক হিসাবরক্ষণের মাধ্যমেই সম্ভব। এছাড়া নগদ তহবিল তছরূপ রোধ করাও সম্ভব হয়।
(৪) গাণিতিক শুদ্ধতা যাচাই :
হিসাব খাতগুলোর উদ্বৃত্ত বা জের নিয়ে রেওয়ামিল তৈরির মাধ্যমে লেনদেনের যাচাই সম্ভব হয়।
(৫) লাভ-লোকসান নির্ণয় :
সঠিকভাবে হিসাব রাখলে কারবারের প্রকৃত লাভ-লোকসান নির্ণয় করা যায় গাণিতিক শুদ্ধতা।
(৬) কারবারের আর্থিক অবস্থা নির্ণয় :
হিসাব সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে বছরের শেষে বা যে-কোন সময় কারবারের আর্থিক দায়-দেনা, সম্পত্তির পরিমাণ যাচাই করা যায় ।
(৭) দু’তরফা নীতির সঠিক প্রয়োগ :
বিজ্ঞানসম্মতভাবে দু’তরফা দাখিলা পদ্ধতি প্রয়োগের জন্য হিসাব খাত তৈরি অপরিহার্য |
(৮) প্রামাণ্য দলিল :
লেনদেনসমূহ হিসাবের বইতে স্থায়ীভাবে লিপিবদ্ধ থাকে, তাই বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হলে সংরক্ষিত হিসাব প্রামাণ্য দলিল হিসাবে ভুল বুঝাবুঝি অবসানে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
(৯) জালিয়াতি রোধ:
সুষ্ঠুভাবে হিসাব রাখলে জালিয়াতি রোধ সম্ভব হয়, এছাড়া সংঘটিত জালিয়াতি উদ্ঘাটন করা যায়।
(১০) কর নিরূপণ সহায়ক :
আয়কর, সম্পদ কর, ভ্যাট প্রভৃতি নির্ণয়ে সঠিক হিসাব রেকর্ড সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

(১১) তুলনামূলক হিসাব-বিশ্লেষণ :
বিভিন্ন বছরের হিসাবসমূহ তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ সহজ হয় |
(১২) ব্যয় নিয়ন্ত্রণ :
বিভিন্ন শ্রেণির খরচ ঈন্সিত লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে সীমাবদ্ধ কিনা, তা যাচাই করে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় হয় পদক্ষেপ নেওয়া যায়।
(১৩) ব্যবস্থাপনায় সহায়তা :
কারবারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়ন, নীতিনির্ধারণ ইত্যাদি বিষয়ে হিসাব ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করে। সর্বশেষে বলা যায় যে, আধুনিক কারবারি জগতে সুষ্ঠু হিসাব রাখার গুরুত্ব অপরিসীম।
