লেনদেনের গুরুত্ব ব্যাখ্যা | লেনদেন, লেনদেনকে বলা যায় হিসাববিজ্ঞানের মূলভিত্তি বা মূল উপাদান। ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক অসংখ্য লেনদেনকে কাঙ্ক্ষিত আর্থিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে আধুনিক হিসাবশাস্ত্রের উৎপত্তি হয়েছে। কোনো ঘটনার উপর ভিত্তি করে লেনদেনের সৃষ্টি হয়। এসব ঘটনা আর্থিক ও অনার্থিক দু’ধরনের হয়ে থাকে। অর্থের দ্বারা পরিমাপযোগ্য ঘটনাকে আর্থিক ঘটনা এবং অর্থ দ্বারা পরিমাপযোগ্য নয় এরূপ ঘটনাকে অনার্থিক ঘটনা বলে। বস্তুত আর্থিক ঘটনাসমূহই লেনদেন যা হিসাববিজ্ঞানের মূল উপাদান বা কাচামাল (Raw material) রূপে বিবেচনা করা যায় ।
লেনদেনের গুরুত্ব ব্যাখ্যা | লেনদেন | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

লেনদেন-শব্দটি ‘লেন’ এবং ‘দেন’ এ দু’টি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। এর অভিধানগত অর্থ হলো গ্রহণ ও দান অর্থাৎ আদান-প্রদান। সুতরাং লেনদেন শব্দটির দ্বারা সাধারণত দুই ব্যক্তির মধ্যে কোনো কিছু আদান-প্রদান করাকে বুঝায়। কিন্তু ব্যবসায়িক দৃষ্টিতে কেবলমাত্র আর্থিক আদান-প্রদানকেই লেনদেন বলে ।
লেনদেনের গুরুত্ব-ব্যাখ্যা
একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে লেনদেনের-গুরুত্ব অত্যধিক। লেনদেন সংঘটিত হলে ব্যবসায়ে আর্থিক পরিবর্তন সাধিত হয়। এই আর্থিক পরিবর্তন সবসময় প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে হয় না, কিছু কিছু লেনদেন প্রতিকূলেও হয়। তাই লেনদেনের-গুরুত্বকে অনুধাবন করে ব্যবসায়ী তার খরচের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কেননা, লেনদেনগুলো সুষ্ঠু হিসাবরক্ষণের মাধ্যমেই একটি নির্দিষ্ট খরচের খাতে বরাদ্দকৃত বাজেট অপেক্ষা বেশি খরচ হয়েছে কি-না তা জানা যায়।

আবার লেনদেনের প্রকৃতিকে বিচার- বিশ্লেষণ করে সঠিক হিসাবরক্ষণের মাধ্যমে কারবারের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা জানা যায়। যেমন- কোনো দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করলে তার বিনিময়ে কারবারে আর্থিক লাভ না হলেও এর জন্য প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধি পায়। পরিশেষে বলা যায় যে, লেনদেনই হলো একটি কারবারী প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন স্বাভাবিক কার্যাবলির চালিকাশক্তি। লেনদেন ব্যতীত লাভ-লোকসান কিছুই সম্ভব নয়। তাই ব্যবসায়ে এর গুরুত্ব অত্যধিক।
