অর্থায়নের কার্যাবলি এবং নীতিসমূহ বা “১ম অধ্যায় (chapter 1)” আজকের ক্লাসের আলোচ্য বিষয়। অর্থায়নের সূচনা – অর্থায়নের কার্যাবলি এবং নীতিসমূহ [ Initiation Of Financing ] ক্লাসটি এইচএসসি’র ফাইন্যান্স ১ম পত্র (HSC Finance 1st Paper) এর সিলেবাসের অংশ। ইচএসসি’র ফাইন্যান্স ১ম পত্র (HSC Finance 1st Paper) বা একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর ফাইন্যান্স ১ম পত্র (Class 11-12 Finance 1st Paper)” এর “১ম অধ্যায় (chapter 1)” এ পড়ানো হয়।
অর্থায়নের কার্যাবলি এবং নীতিসমূহ
অর্থায়নের কার্যাবলী আলোচনা কর
নিচে অর্থায়নের কাজ আলোচনা করা হলো :
১. আর্থিক পরিকল্পনা করা : অর্থায়নের প্রথম কাজ হলো আর্থিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা। কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য অর্জনে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সরকারের অর্থের প্রয়োজন । আর সেই অর্থ কোথায় থেকে সংগ্রহ করতে হবে তার পরিকল্পনা করতে হয় । আর্থিক পরিকল্পনার সময় অর্থের প্রয়োজনীয়তা এবং অর্থের পরিমাণ, সময় ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করতে হয়। কী পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন, কত সময়ের জন্য প্রয়োজন, কোন কোন খাতে কী পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন এবং সেই অর্থ কোথায় ব্যয় করা হবে তার একটি বিস্তারিত বিবরণকেই আর্থিক পরিকল্পনা বলা হয়।

২. উৎস শনাক্তকরণ : আর্থিক পরিকল্পনা করার পর অর্থায়নের অন্যতম কাজ প্রয়োজনীয় অর্থ কোন কোন উৎস থেকে পাওয়া যেতে পারে তা চিহ্নিত করা । এটা হতে পারে কোনো ব্যক্তি, বন্ধুবান্ধব বা কোনো আত্মীয়স্বজন, কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বা অন্য কোনো বাহ্যিক উৎস থেকে। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় অর্থ পাওয়া যাবে এমন সম্ভাব্য উৎসসমূহ শনাক্ত করা অর্থায়নের কাজ।
৩. তহবিল সংগ্রহ : শনাক্তকৃত উৎস হতে প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করা অর্থায়নের তৃতীয় কাজ। তহবিল সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নিয়ম-নীতি, শর্ত ও সময় বিবেচনা করতে হয়। এই সব নিয়ন-কানুন ও শর্ত বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় অর্থ এক বা একাধিক উৎস হতে সংগ্রহ করা অর্থায়নের কাজ।
৪. মূলধন বাজেটিং সিদ্ধান্ত : কোম্পানির কোন একটি বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে, সেই বিনিয়োগ কোম্পানির জন্য কতটা ভালো ফলাফল আনবে তা নির্ধারন করে সিদ্ধান্ত নেওয়াকে মূলধন বাজেটিং সিদ্ধান্ত বলে । কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে মূলধন বাজেটিং সিদ্ধান্ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি কোম্পানির মুনাফা এবং প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে প্রভাবিত করে। মূলধন বাজেটিং-এ যেহেতু কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি সম্পত্তি জড়িত, যাতে বিরাট অংকের আর্থিক বিনিয়োগ সম্পৃক্ত, সেহেতু এর তাৎপর্য অন্যান্য স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের চেয়ে অনেক বেশি। বস্তুত মূলধন বিনিয়োগের সঠিক সিদ্ধান্তের ওপর কোম্পানির ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নির্ভরশীল। এ জন্যই প্রকল্প নির্বাচনকালে আর্থিক ব্যবস্থাপককে সর্বাধিক সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়।
৫. স্বল্পমেয়াদি সম্পদ ব্যবস্থাপনা : স্বল্পমেয়াদি সম্পদের দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহারের মাধ্যমে আর্থিক ব্যবস্থাপনার সঠিক প্রয়োগ করা হয়। সাধারণত ১ বছর বা তার কম সময়ের বিনিয়োগকে স্বল্পমেয়াদি বা চলতি মূলধন ব্যবস্থাপনা বলে। বেশি অর্থ বিনিয়োগ করলে তারল্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে, অনুরূপভাবে কম অর্থ বিনিয়োগ করলে মুনাফা কমে যেতে পারে। এ জন্য লভ্যাংশ ক্ষমতা এবং তারল্যের মধ্যে সামন্তস্য রেখে বিনিয়োগ করা উচিত।
৬. তহবিল বণ্টন / লভ্যাংশ সিদ্ধান্ত : ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান তহবিল সংগ্রহ করে বিভিন্ন লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করে মুনাফা অর্জন করে থাকে । এক্ষেত্রে মালিকপক্ষ বা শেয়ারহোল্ডার এবং ঋণদাতাদের প্রত্যাশা পূরণে আর্থিক ব্যবস্থাপককে তহবিল বণ্টনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হয়। যেমন শেয়ার বিক্রয়ের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করা হলে কোম্পানির অর্জিত লাভ বা মুনাফা শেয়ার মালিকদের মধ্যে বণ্টন করতে হয়। আবার ব্যাংক ঋণ ও অন্যান্য ঋণ যেমন- বন্ড, ডিবেঞ্চার ইত্যাদির মাধ্যমে তহবিল সংগৃহীত হলে যথাসময়ে নির্দিষ্ট হারে ঋণের সুদ পরিশোধ করতে হয়। এছাড়াও কোম্পানির মুনাফা হতে সরকারকে কর প্রদান করতে হয় ।

