হিসাবসমীকরনের উপর প্রভাব বা “১ম অধ্যায় (chapter 1)” আজকের ক্লাসের আলোচ্য বিষয়। হিসাবসমীকরনের উপর প্রভাব [ Impact On Calculation Equations ] ক্লাসটি এইচএসসি’র একাউন্টিং (HSC Accounting) এর সিলেবাসের অংশ। এইচএসসি’র একাউন্টিং (HSC Accounting) বা একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর হিসাববিজ্ঞান ১ম পত্র (Class 11-12 Accounting 1st Paper)” এর “১ম অধ্যায় (chapter 1)” এ পড়ানো হয়।
Table of Contents
হিসাবসমীকরনের উপর প্রভাব
দুতরফা দাখিলা পদ্ধতিতে প্রতিটি লেনদেন বিশেষণ করলে দ্বৈতসত্তা বা দুটি পক্ষ পাওয়া যায়। যার একটি ডেবিট ও অন্যটি ক্রেডিট। লেনদেনের এ দ্বৈত সত্তার উপর ভিত্তি করে আধুনিক হিসাববিজ্ঞানীগণ একটি গাণিতিক সূত্র প্রবর্তন করেন যা হিসাবসমীকরণ নামে পরিচিত।
অন্যভাবে বলা যায়, যে গাণিতিক সূত্রের সাহায্যে ব্যবসায়ের মোট সম্পত্তি ও মোট দায়ের সম্পর্ক প্রকাশ করা হয় তাকে হিসাব সমীকরণ বলে।
অর্থাৎ সহজভাবে বলতে গেলে হিসাববিজ্ঞানের কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়ের মোট সম্পত্তি হল দায় ও মালিকানা স্বত্বের যোগফল, এটাই গাণিতিক ভাবে প্রমাণ করাকেই হিসাব সমীকরণ বলে।

হিসাব সমীকরণের সূত্র ও ব্যাখ্যা
হিসাব সমীকরণের সুত্রটি হল A=L+OE এই সমীকরণের ব্যাখ্যা
- A = Assets (সম্পত্তি সমূহ),
- L= Liabilities (দায়সমূহ),
- OE=মালিকানা স্বত্ব
মোট সম্পত্তি হল দায় + মালিকানা স্বত্ব
হিসাব সমীকরণের উপাদানের বিশ্লেষণ
হিসাব সমীকরণের তিনটি মৌলিক উপাদান (সম্পদ, দায় ও মালিকানা স্বত্ব) এর মধ্যে মালিকানা স্বত্বকে আরো চারটি উপাদানে ভাগ করা হয়। মালিকানা স্বত্ব (OE) = C+R-E-D এখানে,
- C = Capital (মূলধন)
- R = Revenue (আয়)
- E = Expenses (ব্যয়)
- D = Withdraw/Drawing(উত্তোলন)
অর্থাৎ, মূলধনের সাথে আয় যোগ করে সেখান থেকে ব্যয় ও উত্তোলন বাদ দিলে মালিকানা স্বত্ব (OE) পাওয়া যাবে।
সম্পত্তি (Assets) — সমীকরণের উপাদানের ব্যাখ্যা
সম্পত্তি: ভবিষ্যতে সুবিধা পাওয়া যাবে এমন দৃশ্য বা অদৃশ্য উৎস যার মালিকানা স্বত্ব ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের তাকে সম্পত্তি বলা হবে। আসবাবপত্র, দালানকোঠা, সুনাম, কলকব্জা প্রভৃতি। সম্পত্তিসমূহ ভবিষ্যৎ আয় বা পণ্য উৎপাদনে ব্যবহার করা হবে। সকল সম্পত্তির ভবিষ্যৎ সুবিধা প্রদানের ক্ষমতা থাকতে হবে যা নগদ আন্তঃপ্রবাহ সৃষ্টিতে সহায়তা করবে।
দায় (Liabilities) — সমীকরণের উপাদানের ব্যাখ্যা
প্রাপ্ত সুবিধার বিপরীতে প্রদেয় বা ভবিষ্যতে প্রদান করা হবে এমন আর্থিক সম্পর্ককে দায় বলে। FASB দায়কে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন “Probable future sacrifies of economic benifits.” উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, কর্মচারীগণ সারা মাস প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছে কিন্তু বেতন প্রদান করা হয়নি। এখানে কর্মচারিদের নিকট থেকে সুবিধা নেয়া হয়েছে কিন্তু তার প্রতিদান বা আর্থিক মূল্য প্রদান করা হয়নি। এরূপ সুবিধা গ্রহণের পর প্রতিদান প্রতিদানের আর্থিক মূল্যকে দায় বলে।
মালিকানা স্বত্ব (Owners Equity) — সমীকরণের উপাদানের ব্যাখ্যা
প্রতিষ্ঠানের উপর মালিকের আর্থিক দাবি বা অধিকারকে মালিকানা স্বত্ব বলে। অন্যভাবে বলা যায়, মোট সম্পদ হতে বহিঃদায় বাদ দিলে যা অবশিষ্ট থাকবে তাকে মালিকানা স্বত্ব বলে। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের যত সম্পত্তি আছে তা থেকে মালিক ব্যতীত অন্য যারা টাকা পায় তা বাদ দিলে যা অবশিষ্ট থাকে তার অধিকার শুধু মালিকের। মালিকের অধিকারকে হিসাববিজ্ঞানের ভাষায় মালিকানা স্বত বলে।

