হিসাববিজ্ঞান কলা নাকি বিজ্ঞান | Accounting Theory & Practice

হিসাববিজ্ঞান কলা নাকি বিজ্ঞান আজকের ক্লাসের আলোচনার বিষয় । হিসাববিজ্ঞান কলা নাকি বিজ্ঞান [Accounting: Art or Science ] ক্লাসটি পলিটেকনিক [Polytechnic] এর একাউন্টিং থিউরি এন্ড প্র্যাকটিস ৬৫৮৫১ [ Accounting Theory & Practice, 65851 ] বিষয়ের, ৪র্থ অধ্যায়ের [Chapter 4] অংশ।

 

হিসাববিজ্ঞান কলা নাকি বিজ্ঞান

হিসাববিজ্ঞান বা অ্যাকাউন্টিং হল কোন অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, যেমন ব্যবসায় বা সংঘবদ্ধ দলের আর্থিক ও অনার্থিক তথ্য পরিমাপণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং যোগাযোগের একটি মাধ্যম। আকাউন্টিঙের আধুনিক শাখাটি প্রতিষ্ঠিত হয় বেনেডিক্ট কটরুলজেভিক কর্তৃক ১৪৫৮ খ্রিস্টাব্দে। যিনি একজন ব্যবসায়ী, কুটনীতিক, বিজ্ঞানী এবং অর্থনীতিবিদ ছিলেন।

 

হিসাববিজ্ঞান কলা

 

তাঁর সাথে ছিলেন দুব্রভনিক (ক্রোয়েশিয়া) ও ইতালিয়ান গণিতবিদ লুকা প্যাসিওলি। ১৪৯৪ খ্রিস্টাব্দে ব্যবসায়ের ভাষা হিসেবে স্বীকৃত হিসাববিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কর্মকান্ডের ফলাফল পরিমাপ করে এবং এই তথ্য বিভিন্ন ধরনের ব্যবহারকারীর ( বিনিয়োগকারী, ঋণদাতা, ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার) কাছে দিয়ে থাকে। হিসাববিজ্ঞান চর্চাকারীগণকে হিসাববিদ বলা হয়। হিসাববিজ্ঞান ও আর্থিক প্রতিবেদনকরণ প্রায় সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

পণ্য ক্রয়, বিক্রয়, মজুদকরণ, হিসাব নিকাশ, মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনাসহ ব্যবসায়ের অন্যান্য হিসাব সংরক্ষণের জটিল এবং ক্লান্তিকর কাজগুলো আজকাল কম্পিউটার সফটওয়্যারের সাহায্যে অনেক দ্রুততার সাথে করা যায়। এই সফটওয়্যারগুলো সচরাচর প্রত্যেকটি প্রধান কার্যক্রমের সাথে অন্তর্নিহিতভাবে সংযুক্ত থাকে; এতে করে একটি তথ্য প্রবেশ করালে তা সমস্ত হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। এই সফটওয়্যারগুলো দিয়ে একজন কর্মী প্রায় ২০০ মানুষের কাজ একাই করে ফেলতে পারে। এই ধরনের একাউন্টিং সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের কাজ অনেক সহজ করে দেয় এবং এতে করে পণ্য ও সেবার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং অর্থ সাশ্রয় হয়।

হিসাববিজ্ঞান প্রায় হাজার বছর ধরে চর্চিত একটি বিদ্যা। প্রাচীন মেসোপটেমিয়া সভ্যতায় উৎপাদিত ফসল এবং মন্দিরে সংগৃহীত শস্যের হিসাব রাখার জন্য হিসাববিজ্ঞানের প্রাচীনতম পন্থাগুলো ব্যবহৃত হতো।

অতি প্রাচীনকাল থেকে মানুষ লেনদেনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে ও বিভিন্নভাবে তা সংরক্ষণের উপায় বের করে । দক্ষিণ আফ্রিকার একটি প্রাচীন গুহা থেকে উদ্ধারকৃত কিছু লিপি থেকে বোঝা যায় যে প্রায় ৭৬,০০০ বছর আগেও মানুষ হিসাব সংরক্ষণের চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিল। এটি ছিল হিসাববিজ্ঞানের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাচীন নিদর্শন।

হিসাববিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনগুলি পাওয়া যায় ব্যাবিলনিয়, এশিরীয় ও সুমেরীয় সভ্যতায়। এই সভ্যতাগুলো প্রায় ৭,০০০ বছর পূর্বে মেসোপটেমিয়া নদীর তীরে গড়ে ওঠে এবং বিকাশ লাভ করে। উক্ত সভ্যতার লোকেরা শুধুমাত্র কৃষি উৎপাদন পরিমাপ করতেই হিসাবের আদিম পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করত।

সেই আদিম পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করে ফসল গত বছরের তুলনায় কম হয়েছে না বেশি হয়েছে তা নির্ণয় করা যেতো। উৎপাদিত ফসলের একটি অংশ মন্দিরে দান করতে হতো। আর কে কতোটুকু দান করল মন্দির কর্তৃপক্ষ তা দেওয়ালে চিহ্নের মাধ্যমে লিখে রাখতো। এই প্রাচীন দেওয়াল খোদাইগুলোকেও হিসাববিজ্ঞানের প্রাচীন প্রচেষ্টা বলা যেতে পারে।

 

Finance Gurukul Logo 252x68 px Dark

 

হিসাববিজ্ঞান কলা নাকি বিজ্ঞান নিয়ে বিস্তারিত ঃ

Leave a Comment