হিসাবরক্ষণ বনাম হিসাববিজ্ঞান আজকের ক্লাসের আলোচ্য বিষয়। হিসাবরক্ষণ বনাম হিসাববিজ্ঞান [ Difference Between Book Keeping and Accounting] ক্লাসে হিসাবরক্ষণ ও হিসাববিজ্ঞান এর মধ্যে সম্পর্ক, সদৃশ বা পার্থক্য নিয়ে কথা বলা হয়। এএই বিষয়টি বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পলিটেকনিক (Polytechnic) ডিসিপ্লিনের ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং (Diploma in Englineering) এর সিলেবাসের অংশ। সাবজেক্টটির নাম “একাউন্টিং থিউরি এন্ড প্র্যাকটিস (Accounting Theory and Practice)”, সাবজেক্ট কোড ৬৫৮৫১ (65851) এর ১ম অধ্যায়ের [Chapter 1] পাঠ ।
বাংলাদেশের জাতিয় শিক্ষাক্রমে উচ্চ মাধ্যমিক (Higher Secondary) বা এইচএসসি’র একাউন্টিং সিলেবাস (HSC Accounting) এর সাথে পলিটেকনিকের সিলেবাসের প্রচুর মিল আছে। অর্থাৎ এই পাঠ পলিটেকনিকের “একাউন্টিং থিউরি এন্ড প্র্যাকটিস” এর শিক্ষার্থীদের যেভাবে সহায়তা করবে, একই ভাবে “একাদশ শ্রেণীর হিসাববিজ্ঞান (Class 11 Accounting)” বা “দ্বাদশ শ্রেণীর হিসাববিজ্ঞান (Class 12 Accounting)” এর শিক্ষার্থীদের সাহায্য করবে।
হিসাবরক্ষণ বনাম হিসাববিজ্ঞান

হিসাবরক্ষণ ও হিসাববিজ্ঞান একই বিষয়ের দুটি ধাপ হলে এদের কার্যের ধরন, আওতা ও প্রায়োগিক কিছু বিষয়ে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়, যা নিম্নরূপ:
| পার্থক্যের বিষয় | হিসাবরক্ষণ | হিসাববিজ্ঞান |
| ১. সংজ্ঞা | অর্থ বা অর্থে পরিমাপযোগ্য ঘটনাসমূহ বিশেষ পদ্ধতিতে লিপিবদ্ধ করার কৌশলকে হিসাবরক্ষণ বলে। | হিসাবের খাতায় লিখিত আর্থিক লেনদেনসমূহের সামগ্রিক ফলাফল নির্ণয় ও ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করাকে হিসাববিজ্ঞান বলে। |
| ২. গুরুত্ব | এতে হিসাবরক্ষণের প্রয়োগের উপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়। | এতে হিসাবরক্ষণের তত্ত্বের উপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়। |
| ৩. আওতা | আর্থিক লেনদেনসমূহ হিসাবভুক্তকরণ, শ্রেণীবদ্ধকরণ ও জের নির্ণয় এর আওতাভুক্ত। | সামগ্রিক আর্থিক ফলাফল নির্ণয়, আর্থিক অবস্থা নির্ণয় ও বিচার বিশ্লেষণ করা এর আওতাভুক্ত। |
| ৪. ধাপ | এটি সামগ্রিক হিসাব প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপ। | এটি সামগ্রিক হিসাব প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ধাপ। |
| ৫. উদ্দেশ্য | সুষ্ঠু ও সম্পূর্ণরূপে তারিখ অনুযায়ী আর্থিক লেনদেনগুলি স্থায়ীভাবে লিপিবদ্ধ করা এর প্রধান উদ্দেশ্য। | প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধন পূর্বক কারবারের | আর্থিক চিত্র প্রদর্শন, অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক পক্ষসমূকে প্রয়োজনীয় হিসাব তথ্য প্রদান এর প্রধান উদ্দেশ্য। |
| ৬. উপাদান | এর উপাদান হল লেনদেনসমূহের প্রামাণ্য দলিল পত্রাদি। | এর উপাদান হল হিসাবরক্ষণ হতে প্রাপ্ত তথ্যাদি। |
| ৭. জ্ঞানের পরিধি | এরূপ কার্য সম্পাদনকারীর জ্ঞানের পরিধি সীমিত। | এরূপ কার্য সম্পাদনকারীর বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞান থাকা উচিত। |
| ৮. কাজের ভিত্তি | এর কাজের ভিত্তি হল প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়াবলি। | এর কাজের ভিত্তি হল হিসাবরক্ষণের নীতি ও কার্যাবলি |
| ৯. কার্যের প্রকৃতি | এর কাজের প্রকৃতি হল সুষ্ঠু ও নির্ভুলভাবে হিসাব সংরক্ষণ। | এর কাজের প্রকৃতি হল বিশ্লেষণমূলক। |
