ৰাষ্ট্ৰাকৃত নগদান পদ্ধতি | উৎপাদন ব্যয় ও আর্থিক হিসাববিজ্ঞান | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

ৰাষ্ট্ৰাকৃত নগদান পদ্ধতি | উৎপাদন ব্যয় ও আর্থিক হিসাববিজ্ঞান, বাট্টাকৃত নগদ প্রবাহ পদ্ধতি : আজ এক টাকার যে মূল্য আছে আগামী এক বছর পর ঐ এক টাকার সে মূল্য থাকবে না। কারণ টাকার একটা ব্যবহারিক মূল্য আছে। যেমন- এ বছর ১০০ টাকা ১০% সুদে খাটিয়ে পরের বছর সুদে মুলে পাওয়া যাবে ১১০ টাকা। অতএব পরবর্তী বছরের ১১০ টাকার বর্তমান মূল্য ১০০ টাকা। বাট্টার নগদান প্রবাহ পদ্ধতিতে নীট ক্যাশ বেনিফিটকে একটি নির্দিষ্ট বাট্টাহার প্রয়োগের মাধ্যমে বর্তমান মূল্য রূপান্তরিত করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন পদ্ধতিগুলোর সূত্র নিম্নে উল্লেখ করা হলো :

ৰাষ্ট্ৰাকৃত নগদান পদ্ধতি | উৎপাদন ব্যয় ও আর্থিক হিসাববিজ্ঞান | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

 

ৰাষ্ট্ৰাকৃত নগদান পদ্ধতি | উৎপাদন ব্যয় ও আর্থিক হিসাববিজ্ঞান | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

 

(ক) নীট বর্তমান মূল্য পদ্ধতি (Net Present Value) :

নগদ অন্তঃপ্রবাহ ও নগদ বহিঃপ্রবাহের বর্তমান মূল্যের পার্থক্যকেই নীট বর্তমান মূল্য বলা হয় । এ পদ্ধতিতে একটি ন্যূনতম বাট্টার হার (সাধারণত মূলধনের ব্যয়কেই ন্যূনতম হার হিসাবে ধরা হয়) নির্দিষ্ট করা হয় এবং উক্ত হারে ভবিষ্যতে প্রাপ্তব্য নগদ প্রবাহসমূহের বর্তমান মূল্য নিরূপণ করা হয়। এভাবে প্রাপ্ত মোট বর্তমান মূল্য ও প্রাথমিক বিনিয়োগের পার্থক্যই হল নীট বর্তমান মূল্য। অর্থাৎ নীট বর্তমান মূল্য = মোট বর্তমান মূল্য- প্রাথমিক বিনিয়োগ।

এক্ষেত্রে, বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্প হতে ভবিষ্যতে প্রাপ্তব্য আনুমানিক নগদ প্রবাহসমূহের বাট্টাকৃত বর্তমান মূল্য যদি প্রাথমিক বিনিয়োগ অপেক্ষা বেশি হয় বা প্রাথমিক বিনিয়োগের সমান হয়, তবে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। যদি একাধিক বিকল্প প্রকল্প থাকে তবে এদের পৃথক পৃথক নীট বর্তমান মূল্য নিরূপণ করতে হয় এবং যে প্রকল্পের নীট বর্তমান মূল্য অধিক হয় সে প্রকল্পই গ্রহণ করা হয় ।

 

(খ) অভ্যন্তরীণ লাভের হার পদ্ধতি (Internal Rate of Return) :

অভ্যন্তরীণ লাভের হার পদ্ধতি বলতে এমন একটি হার বুঝায় যার দ্বারা কোন প্রকল্পের ভবিষ্যতের সমুদয় খরচ ও সুবিধাকে বর্তমান মূল্যে পরিবর্তিত করলে তারা পরস্পর সমান হয়। অন্যভাবে তা এমন একটি বাট্টার হার যাতে বিনিয়োগের ‘NPV’ শূন্য হয় বর্তমান মূল্য পদ্ধতিতে কি হারে নগদ প্রবাহকে বাট্টা করা হবে তা পূর্ব হতেই নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু অভ্যন্তরীণ লাভের হার পদ্ধতিতে বাট্টার হার পরীক্ষা এবং ভুল সংশোধন (Trial and Error) প্রক্রিয়ায় নির্ধারণ হয় মূলধন ব্যয়ের হার অভ্যন্তরীণ লাভের হার অপেক্ষা বেশি হলে প্রকল্প গ্রহণ করা হয় না।

একাধিক বিকল্প প্রকল্প নির্বাচনের সময় যে প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ লাভের হার অধিক হয়, সে প্রকল্পটিকেই গ্রহণ করা হয় । এ পদ্ধতিতে যে লাভের হার নিরূপিত হয় তা খুবই অর্থপূর্ণ ও বিনিয়োগকারীর নিকট সহজেই গ্রহণযোগ্য বিনিয়োগকারী বিভিন্ন বিকল্প হতে সর্বাধিক লাভজনক প্রকল্প নির্বাচন করতে সুযোগ পান। কিন্তু এ পদ্ধতি সহজে বুঝা যায় না এবং অভ্যন্তরীণ লাভের হার নিরূপণ করতে বেশ জটিল হিসাব-নিকাশের প্রয়োজন হয়।

 

ৰাষ্ট্ৰাকৃত নগদান পদ্ধতি | উৎপাদন ব্যয় ও আর্থিক হিসাববিজ্ঞান | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

 

(গ) মুনাফা অর্জন ক্ষমতা সূচক পদ্ধতি (Profifability Index Method) :

ভবিষ্যতে প্রাপ্তব্য প্রবাহের নির্দিষ্ট হারে বাট্টাকৃত মোট বর্তমান মূল্য ও প্রাথমিক বিনিয়োগের অনুপাতকেই মুনাফা যোগ্যতা সূচক লাভজনকতা সূচক বলা হয় । এ পদ্ধতিতে মুনাফা যোগ্যতা সূচকের মান এক অপেক্ষায় বেশি বা একের সমান হলেই প্রকল্প গ্রহণযোগ্য একাধিক বিকল্প প্রকল্পের মধ্যে যে প্রকল্পের মুনাফাযোগ্যতা সূচকের মান বেশি সে প্রকল্পেই গ্রহণযোগ্য হয় ।

Leave a Comment