হিসাবের আধুনিক পদ্ধতি | HSC Accounting

হিসাবের আধুনিক পদ্ধতি বা “২য় অধ্যায় (chapter 2)” আজকের ক্লাসের আলোচ্য বিষয়। “হিসাবের শ্রেনীবিভাগ – আধুনিক পদ্ধতি [ Classification of Accounts – Modern Methods ]” ক্লাসটি এইচএসসি’র একাউন্টিং (HSC Accounting) এর সিলেবাসের অংশ। এইচএসসি’র একাউন্টিং (HSC Accounting) বা একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর হিসাববিজ্ঞান ১ম পত্র (Class 11-12 Accounting 1st Paper)” এর “২য় অধ্যায় (chapter 2)” এ পড়ানো হয়।

 

হিসাবের আধুনিক পদ্ধতি

ব্যবসায়ে লেনদেন সংঘটিত হওয়ার পর প্রতিটি লেনদেনের সাথে জড়িত দুটি হিসাব খাত চিহ্নিত করে উক্ত হিসাব খাত দুটি কোন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত তা নির্ণয় করতে হয়। আর এ হিসাবসমূহ সাধারণত কোনাে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামের ভিত্তিতে, সম্পদের ভিত্তিতে, দায়ের ভিত্তিতে অথবা আয়-ব্যয়ের ভিত্তিতে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। হিসাবের শ্রেণিবিভাগের ক্ষেত্রে বর্তমানে দুটি পদ্ধতি প্রচলিত আছে (ক) প্রচলিত বা সনাতন পদ্ধতি (Traditional Method) (খ) আধুনিক পদ্ধতি বা সমীকরণ পদ্ধতি (Modern or Equation Method)

 

হিসাবের আধুনিক পদ্ধতি

 

আধুনিক বা সমীকরণ পদ্ধতি (Modern or Equation Method): বর্তমানে আধুনিক হিসাব বিশারদগণ আর্থিক বিবরণীর তথা হিসাব সমীকরণের ওপর ভিত্তি করে হিসাবের শ্রেণিবিভাগ করেছেন। হিসাব সমীকরণটি হচ্ছে-
A=L+OE/E
Assets = Liabilities + Owners Equity.
সম্পত্তি = দায় + মালিকানা স্বত্ব বর্ধিত হিসাব সমীকরণটি হচ্ছে
A= L+(C+ R – Ex – D)
Assets = Liabilities + (Capital + Revenue – Expenses – Drawings)
সম্পত্তি = দায়-+(মূলধন + আয় খরচ উত্তোলন)
উপরােক্ত বর্ধিত হিসাব সমীকরণ থেকে আমরা হিসাবের যে শ্রেণিবিভাগ পাই তা হলাে—

নিম্নে প্রত্যেকটি হিসাব সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলােচনা করা হলাে-

 

১. সম্পত্তি সংক্রান্ত হিসাব (Assets Accounts): প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ধরনের সম্পত্তির জন্য পৃথক পৃথকভাবে যে হিসাব রাখা হয় তাকে সম্পত্তি সংক্রান্ত হিসাব বলে। অর্থাৎ, যে লেনদেন দ্বারা প্রতিষ্ঠানের বস্তু বা সম্পত্তির হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে এবং এদের যে হিসাবে লেখা হয় তাকে সম্পত্তি হিসাব বলে। যেমন- দালানকোঠা, আসবাবপত্র, ব্যাংক হিসাব ইত্যাদি।

২. দায় সংক্রান্ত হিসাব (Liability Accounts): প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রকার দায়ের জন্য পৃথক পৃথকভাবে যে হিসাব রাখা হয় তাকে দায় সংক্রান্ত হিসাব বলে। যদি কোনাে লেনদেন দ্বারা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়ের পরিমাণের হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে এবং উক্ত বিষয়গুলাে যে হিসাবে লেখা হয় তাকে দায় হিসাব বলে। যেমন- পাওনাদার, ঋণপত্র ইত্যাদি।
৩. মূলধন হিসাব/স্বত্বাধিকার সংক্রান্ত হিসাব (Capital Account/Owners Equity): প্রতিষ্ঠানের মােট সম্পত্তির ওপর মালিকের যে দাবি তাকেই মালিকানা স্বত্ব/মূলধন বলা হয়। অর্থাৎ, প্রতিষ্ঠানের মালিকের মূলধন সংরক্ষণের জন্য যে হিসাব রাখা হয় তাকে মূলধন সংক্রান্ত হিসাব বলে। প্রতিষ্ঠানের আয় বৃদ্ধি পেলে মূলধন/মালিকানা স্বত্ব বৃদ্ধি পায় এবং ব্যয় বৃদ্ধি পেলে মূলধন/মালিকানা স্বত্ব হ্রাস পায়।
৪. আয় হিসাব (Revenue Accounts): প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রকার আয় শ্রেণিবিন্যাস করে যে হিসাব খাতে লেখা হয় তাকে আয় হিসাব বলে। যেমন- বিক্রয় আয়, প্রাপ্ত সুদ, প্রাপ্ত কমিশন ইত্যাদি।
৫. ব্যয় হিসাব (Expense Account): প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রকার খচর শ্রেণিবিন্যাস করে যে হিসাব খাতে লেখা হয় তাকে ব্যয় হিসাব বলে। যেমন- পণ্য ক্রয়, বেতন, ভাড়া ইত্যাদি।
 
৬. উত্তোলন হিসাব (Drawing Account): মালিক তার ব্যক্তিগত প্রয়ােজনে ব্যবসায় থেকে যে পরিমাণ নগদ এবং পণ্য দ্রব্য উত্তোলন করে তা হিসাবভুক্ত জন্য যে হিসাব খােলা হয় তাকে উত্তোলন হিসাব বলে। উত্তোলনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে মালিকানা স্বত্বের পরিমাণ কমে যায়। আবার উত্তোলনের পরিমাণ হ্রাস পেলে মালিকানা স্বত্ব বৃদ্ধি পায়।
নােটঃ যেহেত উত্তোলন সরাসরি মালিকের মূলধনের পরিমাণ কমিয়ে দেয় সেহেতু অনেক লেখক উত্তোলনকে মালিকানা স্বত্বের অংশ মনে করে উত্তোলনের জন্য আলাদা কোনাে শ্রেণিবিভাগ করেন না। সেক্ষেত্রে হিসাব পাঁচ প্রকার হবে।

 

হিসাবের শ্রেনীবিভাগ – আধুনিক পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত ঃ

 

Leave a Comment