লেনদেনের প্রকৃতি বা বৈশিষ্ট্য | লেনদেন | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

লেনদেনের প্রকৃতি বা বৈশিষ্ট্য | লেনদেন, প্রতিটি লেনদেন একটি ঘটনা, কিন্তু প্রতিটি ঘটনা লেনদেন নয়। কোনো ঘটনা লেনদেন হতে হলে নিম্নে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যগুলোর যে কোনো একটি উক্ত ঘটনায় বিদ্যমান থাকতে হবে : 

লেনদেনের প্রকৃতি বা বৈশিষ্ট্য | লেনদেন | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

 

লেনদেনের প্রকৃতি বা বৈশিষ্ট্য | লেনদেন | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

 

(১) আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন (Financial Change) :

গুরুত্বপূর্ণ হলেও কোনো ঘটনা যদি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন না করে তবে তাকে লেনদেন বলা যাবে না। প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা বৃদ্ধিকল্পে একজন দক্ষ ম্যানেজার নিযুক্ত করা হলো। ঘটনাটি উল্লেখযোগ্য হলেও এর ফলে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন হয়নি বিধায় এটি লেনদেন নয় অর্থাৎ হিসাবের বইতে এই ঘটনাটি লিপিবন্ধ হবে না। আর্থিক অবস্থার পরিবর্তনেই লেনদেন সংঘটিত হয়। এ পরিবর্তন সু’রকম হতে পারে। যেমন- 

(I) পরিমাণগত বা নীট পরিবর্তন (Quantitative or Net Change) :

যে পরিবর্তন দ্বারা মোট সম্পত্তি ও মোট পায়ের পরিমাণ কমে যায় তাকে পরিমাণগত বা নীট পরিবর্তন বলে। যেমন- দায় পরিশোধ করা, সম্পত্তি নষ্ট হওয়া ইত্যাদি।

(II) কাঠামোগত বা গুণগত পরিবর্তন (Structural or Qualitative Change):

যে ঘটনা দ্বারা মোট সম্পত্তি ও মোট দায়ের পরিমাণ পরিবর্তিত না হয়ে সম্পত্তি ও দায়ের উপাদানগুলোর মধ্যে পরিবর্তন সাধিত হয় তাকে কাঠামোগত বা গুণগত পরিবর্তন বলে। যেমন- দেনাদারের কাছ থেকে টাকা আদায়, সম্পত্তি বিক্রয়, পাওনাদারকে প্রদেয় বিল ইস্যু করা ইত্যাদি ।

(২) অর্থের মানদণ্ডে পরিমাপযোগ্যতা (Measurable in Terms of Money) :

কোনো ঘটনা অর্থ দ্বারা পরিমাপযোগ্য হলেই তাকে লেনদেন বলা যায়; যেমন- মিলটনকে ম্যানেজার হিসেবে নিযুক্তির ঘটনা অর্থ দ্বারা পরিমাপযোগ্য নয় বিধায় এ ঘটনা লেনদেন নয়। কিন্তু ঐ ম্যানেজারকে যখন বেতন দেওয়া হবে তখন সে ঘটনাটি অর্থ দ্বারা পরিমাপযোগ্য বিধায় তাকে লেনদেন বলা যাবে।

(৩) দ্বৈতসত্তা (Two Fold Effect) :

যে আর্থিক ঘটনায় দুটি পক্ষ জড়িত থাকে তাকে লেনদেন বলে। লেনদেনে যুগপৎ দুটি পক্ষ প্রভাবিত হয়। একপক্ষ মূল্য গ্রহণ করে, অপরপক্ষ মূল্য দান করে; যেমন- রহিম করিমকে ১০০ টাকা দান করল, করিম তা গ্রহণ না করলে কোনো লেনদেন হবে না। যখনই করিম টাকাটি গ্রহণ করবে তখনই তা লেনদেন হবে।

(৪) স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও স্বাতন্ত্র্যতা (Self-sufficiency and Independence) :

প্রতিটি লেনদেন স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং অন্যান্য লেনদেন হতে স্বতন্ত্র। অর্থাৎ কোনো লেনদেন পূর্ববর্তী বা পরবর্তী ঘটনার দ্বারা প্রভাবিত হলেও তাদের আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে; যেমন- ক্রয় করার ১০ দিন পর মূল্য পরিশোধ করা। এখানে ক্রয়কালে একটি লেনদেন এবং পরিশোধকালে আরেকটি লেনদেন সংঘটিত হলো। ঘটনা দুটিকে আলাদাভাবে হিসাবভুক্ত করতে হবে। 

(৫) দৃশ্যমানতা (Visibility) :

লেনদেনের ঘটনকাল সর্বদা দৃষ্টিগোচর হবে এমন নয়; দৃষ্টির অগোচরে নীরবে নিভৃতেও লেনদেন হতে পারে। সম্পত্তির অবচয় দৃষ্টিশক্তির অগোচরে নীরবে ঘটে যায়। এর ফলে সম্পত্তির মূল্য হ্রাস পায় এবং লাভের পরিমাণও কমে যায়।

(৬) ভবিষ্যৎ ঘটনা (Future Events) :

সাধারণত যে ঘটনা ঘটে গেছে তাকেই লেনদেন রূপে গণ্য করা হয় এবং হিসাবের বইতে লিপিবদ্ধ করা হয়। কিন্তু ক্ষেত্র বিশেষে ভবিষ্যতে ঘটতে পারে এমন ঘটনাকেও লেনদেন রূপে গণ্য করতে হয়; যেমন- দেনাদারের কিছু অংশ শেষ পর্যন্ত আদায় হয় না এমন অভিজ্ঞতার আলোকে মনে করি ভবিষ্যতের জন্য ৫,০০০ টাকা অনাদায়ী দেনা সঞ্চিতি বাবদ ধার্য করা হলো। অর্থাৎ ভবিষ্যতের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তনের বর্তমান এই স্বীকৃতি লেনদেন হিসেবে বিবেচিত হয়।

(৭) প্রামাণ্য ঘটনা (Evidential Event) :

যেসব আর্থিক ঘটনার দলিলি অথবা বস্তুগত অথবা উভয় প্রকার প্রমাণ দেওয়া যায় ঐগুলোকেই লেনদেন রূপে গণ্য করা হয়; যেমন— অফিসের জন্য আসবাবপত্র কিনলে প্রমাণস্বরূপ আসবাবপত্র এবং আসবাবপত্র কেনার ক্যাশ মেমো উপস্থাপন করা যায়। প্রামাণ্য ঘটনা ছাড়া অন্য কোনো ঘটনা লেনদেন রূপে গণ্য করা হয় না।

 

লেনদেনের প্রকৃতি বা বৈশিষ্ট্য | লেনদেন | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

 

(৮) হিসাব-নিকাশের ভিত্তি (Basis of Accounting) :

কোনো ঘটনা লেনদেন রূপে গণ্য করা হবে কিনা তা নির্ভর করে হিসাব-নিকাশের ভিত্তির উপর। হিসাব-নিকাশের ভিত্তি দু’প্রকার। যথা (১) নগদান ভিত্তিক ও (২) প্রাপ্য প্রদেয় ভিত্তিক। উভয় ভিত্তিই লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। যেমন- নগদে ৪,০০০ টাকার পণ্য বিক্রয়-এটা একটি লেনদেন । আবার জামালের নিকট ধারে ৪,০০০ টাকার পণ্য বিক্রয় -এটাও একটা লেনদেন।

(৯) সম্ভাব্য দায়কে প্রকৃত দায়ে রূপান্তর (Conversion of contingent liability as actual liability):

সম্ভাব্য দায় কোনো লেনদেন নয়। কিন্তু এই দায় থেকে প্রকৃত দায়ের পরিমাণ নিরূপিত হলে তখন তাকে লেনদেন বলা যাবে; যেমন- অনুমোদিত বা বাট্টাকৃত প্রাপ্য বিলের অমর্যাদা, শ্রমিকের ও বিলম্বে মাল সরবরাহের ক্ষতিপূরণের দাবি নিষ্পত্তির চূড়ান্ত দায় কোম্পানির উপর চাপিয়ে দেওয়া হলে এটি লেনদেন বলে বিবেচিত হয়। এর নিষ্পত্তির দায় কোম্পানির উপর না বর্তালে লেনদেন রূপে গণ্য করা হবে না।

 

লেনদেনের বৈশিষ্ট্য  নিয়ে বিস্তারিত ঃ

 

Leave a Comment