রেওয়ামিলের দুই পাশ না মিলার কারণ | রেওয়ামিল, যে সমস্ত কারণে রেওয়ামিলের দুই পার্শ্ব মিলে না বা যে সকল ভুলের জন্য রেওয়ামিলের দু’দিকের যোগফলে অমিল দেখা দেয় নিম্নে সে সকল ভুল উল্লেখ করা হলো :
Table of Contents
রেওয়ামিলের দুই পাশ না মিলার কারণ | রেওয়ামিল | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

(১) ভুলভাবে লিপিবদ্ধ করা :
রেওয়ামিলের ভুল দিকে লেনদেন লিপিবদ্ধ করা হলে রেওয়ামিল অমিল হবে। অর্থাৎ ডেবিট পার্শ্বের পরিবর্তে ক্রেডিট পার্শ্বে এবং ক্রেডিট পার্শ্বের পরিবর্তে ডেবিট পার্শ্বে লেনদেন লিপিবদ্ধ করা হলে রেওয়ামিল মিলে না।
(২) স্থানান্তরের ক্ষেত্রে আংশিক ভুল :
হিসাবসমূহ জাবেদা থেকে খতিয়ানে স্থান্তরের সময় আংশিকভাবে বাদ পড়লে রেওয়ামিল মিলে না। যেমন আসবাবপত্র হিসাব ডেবিট এবং নগদান হিসাব ক্রেডিট। কিন্তু খতিয়ানভুক্ত করার সময় যদি আসবাবপত্র হিসাব বাদ পড়ে যায় তাহলে রেওয়ামিল অমিল হবে।
(৩) স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভুল :
হিসাবসমূহ যদি জাবেদা হতে খতিয়ানে সম্পূর্ণভাবে স্থানান্তর না করা হয় তাহলে রেওয়ামিল অমিল হবে।
(৪) দ্বৈত্য সত্তার বিশ্লেষণ না করা :
লেনদেনসমূহ যদি দ্বৈত সত্তার মাধ্যমে অর্থাৎ দু’তরফা দাখিলা পদ্ধতির মাধ্যমে লিপিবদ্ধ না করা হয় তাহলে রেওয়ামিল মিলে না।
(৫) ডেবিট ক্রেডিট লিখনে ভুল :
জাবেদার কোনো হিসাবখাতকে ডেবিট ও ক্রেডিটের পরিবর্তে যদি খতিয়ানে যথাক্রমে ক্রেডিট ও ডেবিট দিকে লিপিবদ্ধ করা হয় তাহলে রেওয়ামিল মিলে না।
(৬) উদ্বৃত্ত স্থানান্তরিত না করা :
খতিয়ানের কোনো হিসাবের উদ্বৃত্ত যদি রেওয়ামিলে তোলা না হয় তাহলে রেওয়ামিল অমিল হবে।
(৭) উদ্বৃত্ত নির্ণয়ে ভুল :
খতিয়ানের কোনো হিসাবের উদ্বৃত্ত নির্ণয়ে যদি ভুল হয় তাহলে রেওয়ামিল মিলে না।

(৮) হিসাব খাত নিরূপণে ভুল :
লেনদেন যদি সঠিকখাতের পরিবর্তে অন্য কোনো হিসাবখাতে লিখা হয় তাহলেও রেওয়ামিল মিলে না।
(৯) কম বা বেশি অংকে লিখা :
কোনো হিসাব জাবেদা থেকে খতিয়ানে লিখার সময় যদি কম বা বেশি অংকে লিখা হয় তাহলেও রেওয়ামিল মিলে না।
(১০) যোগফল নির্ণয়ে ভুল :
রেওয়ামিলের ডেবিট ও ক্রেডিট পার্শ্বের যোগফল নির্ণয় করতে যদি ভুল হয় তাহলে রেওয়ামিল অমিল হবে। সুতরাং রেওয়ামিলে যে সকল ভুল ধরা পড়ে বা যে সমস্ত ভুলের জন্য রেওয়ামিলের উভয় পার্শ্বের যোগফল অসমান হয় তা আলোচনার পেক্ষিতে বলা যায় যে, জাবেদা, খতিয়ান এবং রেওয়ামিল তৈরির ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা হলে উল্লিখিত ভুলসমূহ বহুলাংশে লাঘব করা সম্ভবপর।
