মূল্যবোধ ও জবাবদিহিতা সৃষ্টিতে হিসাববিজ্ঞান আজকের ক্লাসের আলোচনার বিষয়। মূল্যবোধ ও জবাবদিহিতা সৃষ্টিতে হিসাববিজ্ঞান [Roles of Accounting in Creating Ethics and Accountability] ক্লাসটি পলিটেকনিক [Polytechnic] এর একাউন্টিং থিউরি এন্ড প্র্যাকটিস ৬৫৮৫১ [ Accounting Theory & Practice, 65851 ] বিষয়ের, ৪র্থ অধ্যায়ের [Chapter 4] অংশ।
মূল্যবোধ ও জবাবদিহিতা সৃষ্টিতে হিসাববিজ্ঞান
হিসাব বিজ্ঞান ও মূল্যবােধ
মূল্যবোধ হলো ব্যক্তি ও সমাজের চিন্তা চেতনা, বিশ্বাস, ধ্যান ধারনা প্রভৃতির সমন্বয়ে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠা মানদন্ড যা দ্বারা মানুষ কোন বিষয়ে ভালমন্দ বিচার করে থাকে। মূল্যবোধ সৃষ্টিতে হিসাব বিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

হিসাব বিজ্ঞান ও জাবাবদিহিতা
১. সততা ও দায়িত্ববোধের বিকাশ : হিসাবরক্ষণের ক্ষেত্রে হিসাববিজ্ঞানের রীতি – নীতি ও কলাকৌশল যথাযথভাবে অনুসরণ করা হলে আর্থিক দুর্নীতি, জালিয়াতি, সম্পদ ইত্যাদির উপর নিয়ন্ত্রণ থাকে এবং হিসাবের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়। আর বছরের পর বছর এর অনুসরণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও দায়িত্ববোধ বিকশিত হয়।
২. ঋণ পরিশোধ সচেতনতা সৃষ্টি : হিসাববিজ্ঞান ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে ঋণ পরিশোধে সচেতনতা সৃষ্টি করে এবং তাদের মূল্যবোধ জাগ্রত করে। ফলে ঋণখেলাপি হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস পায়।
৩. ধর্মীয় মূল্যবোধ সৃষ্টি : সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় পরিহার ধর্মীয় মূল্যবোধের অংশ। সঠিক হিসাব সংরক্ষণ করলে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে আয় বুঝে ব্যয় করার মানসিকতা সৃষ্টি ও সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়।
৪. সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধ সৃষ্টি : সরকারের আয়ের অন্যতম উৎসগুলো হচ্ছে ভ্যাট, কাষ্টমস ডিউটি, আয়কর প্রভতি। হিসাববিজ্ঞানের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে সঠিক আয় ও ব্যয় নির্ণয় করা সম্ভব। ফলে কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা হ্রাস পায়।
৫. জালিয়াতি ও প্রতারণা প্রতিরোধ : সুষ্ঠু হিসাবব্যবস্থা প্রচলিত থাকলে সম্ভাব্য শাস্তি ও দুর্নামের ভয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের মধ্যে জালিয়াতি, তহবিল তছরুপ, প্রতারণাসহ বিভিন্ন অনিয়মের প্রবণতা হ্রাস পায়।

