মূলধন জাতীয় ব্যয়, ও মুনাফা জাতীয় ব্যয়ের পার্থক্য | চূড়ান্ত হিসাব | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

মূলধন জাতীয় ব্যয়, ও মুনাফা জাতীয় ব্যয়ের পার্থক্য | চূড়ান্ত হিসাব, নিচে মূলধন জাতীয় ব্যয় ও মুনাফা জাতীয় ব্যয়ের পার্থক্য দেওয়া হলো:

মূলধন জাতীয় ব্যয়, ও মুনাফা জাতীয় ব্যয়ের পার্থক্য | চূড়ান্ত হিসাব | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

 

মূলধন জাতীয় ব্যয়, ও মুনাফা জাতীয় ব্যয়ের পার্থক্য | চূড়ান্ত হিসাব | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

 

অবচয় (Depreciation) :

ল্যাটিন শব্দ Depretium থেকে ইংরেজি Depreciation শব্দের উৎপত্তি হয়েছে। Depreciation শব্দের অর্থ মূল্য হ্রাস পাওয়া বা কমে যাওয়া।

কারবার পরিচালনার জন্য দালান, যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র, সরবরাহ যান ইত্যাদি বিভিন্ন সম্পত্তি ব্যবহার করতে হয়। এরূপ স্থায়ী সম্পত্তিগুলো একাধিক বছরকাল কারবারে ব্যবহৃত হওয়ার পর ক্রমে সম্পত্তিগুলোর ব্যবহার উপযোগীতা নিঃশেষ হয়ে যায় এবং এক সময় সম্পত্তিগুলো আর ব্যবহার করা যায় না। এ সকল সম্পত্তির ক্রমাগত ব্যবহার- জনিত ক্ষয়-ক্ষতি ও অপ্রচলনের ফলে মূল্যের হ্রাসপ্রাপ্তি ঘটে, যা অবচয় হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

নিম্নে অবচয়ের সংজ্ঞা প্রদত্ত হলো :

(১) আর. জি. উইলয়ামস-এর মতে, “সম্পত্তির ব্যবহারজনিত ক্রমিক মূল্য হ্রাসকে অবচয় বলে।” 

(২) আর. এন. কার্টারের মতে, “যে কোন কারণে সম্পত্তির ক্রমাগত ও স্থায়ী মূল্য হ্রাসকে অবচয় বলে।”

(৩) এ. এন. আগর ওয়ালার মতে, “কোন স্থায়ী সম্পত্তির পুস্তক মূল্যের ক্রমাগত হ্রাসকে অবচয় বলে।”

(৪) স্পাইবার ও পেগলার-এর মতে, “যে কোন কারণে কোন নির্দিষ্ট সময়ে সম্পত্তির কার্যকরী কর্মক্ষমতা হ্রাসের মূল্যায়নকে অবচয় বলে।”

উপরিউক্ত সংজ্ঞার আলোকে বলা যায় যে, সম্পত্তির ব্যবহারজনিত ক্ষয়-ক্ষতি, সম্পত্তির গুণগত, পরিমাণগত ও মূল্যগত ক্রমাবনতি, সম্পত্তির অপ্রচলন, বাজার মূল্যের স্থায়ী পতন ইত্যাদি কারণে সম্পত্তির মূল্যের যে অবিরাম ও স্থায়ী মূল্য হ্রাস পায় তাকে অবচয় বলে।

 বার্ষিক সমকিস্তি পদ্ধতি (Annuity Method) :

এ পদ্ধতিতে সম্পত্তির জন্য ব্যয়িত অর্থ একটি বিনিয়োগ হিসাবে গণ্য করা হয়। সম্পত্তির ক্রয়মূল্যের সাথে সুদ যোগ করে বছরের শেষে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ অবচয় হিসাবে সম্পত্তির ক্রয়মূল্য থেকে সুদের যোগফল বাদ দেয়া হয়। সম্পত্তির মূল্যের উপর অবচয়ের পরিমাণ সকল সময় একইরূপ থাকে বলে একে বার্ষিক সমকিস্তি পদ্ধতি বলা হয়। সাধারণত দালানকোঠা, যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র ইত্যাদির ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায়। এ পদ্ধতিতে কী পরিমাণ অবচয় প্রতি বছর বাদ দিতে হবে তা নিম্নে প্রদত্ত Annuity table-এর নমুনা হতে সহজেই বের করা যায়। শুরুতে এক টাকা বিনিয়োগ ধরলে এবং তার উপর নির্দিষ্ট হারে সুদ দেয়া হলে এবং কার্যকরী জীবন স্থির করা থাকলে প্রতি বছর কী পরিমাণ অবচয় ধার্য করতে হবে তা উল্লিখিত Annuity Table হতে সহজে পাওয়া যায়।

সুবিধাসমূহ :

(১) এ পদ্ধতি আদর্শমান, বৈজ্ঞানিক ও সময়োপযোগী পদ্ধতি । 

(২) এ পদ্ধতিতে সম্পত্তির ক্রয়কে মূলধনের বিনিয়োগ ধরে তার উপর নির্দিষ্ট হারে সুদ গণনা করা হয়।

অসুবিধাসমূহ :

(১) এ পদ্ধতিতে সম্পত্তির অবচয় ও মেরামত খরচ একই সাথে দেখানো হয়। ফলে মুনাফা জাতীয় ব্যয়ের রক্ষা করা যায় না। 

(২) নতুন সম্পত্তি ক্রয় করা হলে বা বিক্রয় করা হলে নতুনভাবে হিসাব করতে হয়। সমতা

(৫) ক্রমহ্রাসমান জের পদ্ধতি (Reducing or Diminishing Balance Method) :

এ পদ্ধতিতে প্রতি বছর পূর্ববর্তী বছরের অবচয় বাদ দিয়ে সম্পত্তির যে মূল্য থাকে তার উপর নির্দিষ্ট হারে অবচয় ধরা হয়। এ নির্দিষ্ট শতকরা হারটি এমন হয় যেন কার্যকরী আয়ুষ্কাল শেষে সম্পত্তিটির মূল্য ভগ্নাবশেষ মূল্য ভগ্নাবশেষ মূল্যের সমান হয়। মোট কথা, এ পদ্ধতিতে বার্ষিক অবচয়ের পরিমাণ আস্তে আস্তে কমে আসে। দালানকোঠা, আসবাবপত্র, কলকব্জা ও যন্ত্রপাতি ইত্যাদিতে এ পদ্ধতি বিশেষ উপযোগী।

মনে করি, কোনো সম্পত্তির ক্রয়মূল্য ৪০,০০০ টাকা এবং অবচয়ের হার ১০%

১ম বছর = ৪০,০০০ x ১০% = 8000

২য় বছর = (৪০,০০০ – ৪০০০) x ১০% = ৩৬০০

৩য় বছর = (৩৬০০০ – ৩৬০০) x ১০% = ৩২৪০

সুবিধাসমূহ :

 (১) সম্পত্তির কার্যকরী আয়ুষ্কাল প্রথম দিকে বার্ষিক অবচয়ের পরিমাণ বেশি থাকে, কিন্তু ঐ সময় বার্ষিক মেরামত খরচ অনেক কম থাকে । আরার শেষের দিকে সম্পত্তির মেরামত খরচ অধিক হলেও অবচয়ের পরিমাণ কমে যায়। ফলে মোরামত খরচ ও অবচয়ের পরিমাণ মোটামুটি একই রকম থাকে। 

(২) এ পদ্ধতিতে যন্ত্রপাতি হিসাবে যে উদ্বৃত্ত থাকে তার উপর অবচয় হিসাব করা হয়। ফলে নতুন সম্পত্তি সংযোজিত হলে নতুনভাবে অবচয় হিসাব করতে কোনো অসুবিধা হয় না ।

(৩) এ পদ্ধতি অনুসারে অবচয় ধার্য হলে সম্পত্তির মূল্য কখনো শূন্যে পরিণত হয় না। ফলে সম্পত্তি বিক্রয় না করা পর্যন্ত এর অস্তিত্ব হিসাবের বহিতে থাকে। সেজন্য সম্পত্তি তছরূপ করাও কঠিন।

অসুবিধাসমূহ : 

(১) এ পদ্ধতিতে কোনো সম্পত্তির আয়ুষ্কালের প্রথম দিকে অবচয়ের পরিমাণ বেশি এবং শেষের দিকে অবচয়ের পরিমাণ কম হয় যা বাস্তবসম্মত নয় । কারণ কোনো সম্পত্তির আয়ুষ্কালের শেষের দিকে অবচয়ের পরিমাণ বেশি হয়।

(২) এ পদ্ধতিতে অবচয় নির্ধারণ করা স্থায়ী কিস্তি পদ্ধতির চেয়ে কিছুটা জটিল।

(৩) এ পদ্ধতিতে সম্পত্তিতে বিনিয়োগকৃত মূলধনের সুদ গণনা করা হয় না । 

 

মূলধন জাতীয় ব্যয়, ও মুনাফা জাতীয় ব্যয়ের পার্থক্য | চূড়ান্ত হিসাব | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

 

(৬) যাঁন্ত্রিক ঘণ্টা হার পদ্ধতি (Machine Hour Method) :

এ পদ্ধতিতে প্রথমে যন্ত্রটি কত ঘণ্টা কাজ করতে পারে তা নির্ণয় করা হয়। বৎসরে যন্ত্রটি যে কত ঘণ্টা কাজ করে তার পরিমাণকে প্রতি ঘণ্টা দিয়ে গুণ করলে যে গুণফল পাওয়া যায়, একেই যান্ত্রিক ঘণ্টা হার পদ্ধতি বলে ।

মূলধন জাতীয় ব্যয় এবং মুনাফা জাতীয় ব্যয় শনাক্ত করা 

Expenditure) : (১) বাড়ি ভাড়া (২) যন্ত্রপাতি ক্রয়, (৩) বীমা সেলামী, (৪) কলকজ্বার অবচয়, (৫) বিদ্যুৎ খরচ, (৬) – মেশিনের সংস্থাপন ব্যয়, (৭) কলকজ্বা ও যন্ত্রপাতির মেরামত খরচ, (৮) বিজ্ঞাপন খরচ, (৯) প্রাপ্ত বাট্টা, (১০) শিক্ষানবিশ সেলামী, (১১) দালান কোঠা সম্প্রসারণ, (১২) প্রদত্ত কমিশন, (১৩) মূলধনের সুদ, (১৪) বৈদ্যুতিক সংস্থাপন ব্যয়, (১৫) সুনাম অর্জন ব্যয় ।

Leave a Comment