নানান ব্যয় বিষয় ব্যাখ্যা | উৎপাদন ব্যয় ও আর্থিক হিসাববিজ্ঞান,
(a) স্থায়ী ব্যয় (Fixed cost )
(b) পরিবর্তনশীল ব্যয় (Variable cost)
(c) কারখানার ব্যয় (Factory cost )
(d) উপরি ব্যয় (Overhead cost )
(e) প্রক্রিয়া ব্যয় (Process cost)
(f) প্রত্যক্ষ ব্যয় (Direct cost )
(g) পরিচালন ব্যয় হিসাব (Operating cost )
(h) প্রমাণ ব্যয় (Standard cost)
Table of Contents
নানান ব্যয় বিষয় ব্যাখ্যা | উৎপাদন ব্যয় ও আর্থিক হিসাববিজ্ঞান | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

(ক) স্থায়ী খরচ (Fixed cost) :
যে সকল ব্যয় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উৎপাদনের পরিমাণের উপর নির্ভর করে না এবং উৎপাদনের পরিমাণ কম বেশি হওয়া সত্ত্বেও যে খরচের কোনো পরিবর্তন হয় না তাকে স্থায়ী খরচ বলে। এ খরচের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো উৎপাদন কম বা বেশি হলেও খরচের কোনো হ্রাস-বৃদ্ধি না হয়ে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত স্থির থাকে। যেমন- কর্মকর্তাদের বেতন, বাড়ি ভাড়া, বীমা খরচ, বিভিন্ন প্রকার সম্পত্তি অবচয় ইত্যাদি। ইনস্টিটিউট অব কস্ট এন্ড ওয়ার্কস একাউন্ট্যান্টস-এর মতে, “উৎপাদনের পরিমাণের তারতম্য হওয়ার ফলে যে সমস্ত খরচগুলো একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকে তাকে স্থায়ী খরচ বলে ।
(খ) পরিবর্তনশীল খরচ (Variable cost) :
যে সকল খরচ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উৎপাদনের পরিমাণ কম বা বেশি হলে খরচের পরিমাণও কম বা বেশি হয় তাকে পরিবর্তনশীল খরচ বলে। এ খরচের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো উৎপাদনের, পরিবর্তনের সাথে সাথে খরচেরও পরিবর্তন ঘটে। যেমন- প্রত্যক্ষ কাচামাল, মজুরী, বিদ্যুৎ খরচ ইত্যাদি ।
(গ) কারখানার উপরি খরচ (Factory overhead) :
যে সকল খরচ সরাসরি উৎপাদন খরচ হিসাবে গণ্য করা যায় না বরং সমগ্র কারখানা বা এর কোনো অংশের জন্য হয়ে থাকে তাকে কারখানার উপরি খরচ বলে। যেমন- কারখানার ভাড়া, কারখানার বিদ্যুৎ খরচ, কারখানার মেরামত খরচ, ইত্যাদি ।
(ঘ) উপরি খরচ (Overhead expenditure):
যে সকল খরচ উৎপাদিত পণ্যের সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে চিহ্নিত করা যায় না বা যুক্ত ও নহে কিন্তু উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অবদান রাখে তাকে উপরি খরচ বলা হয়। যেমন- কারখানার উপরি খরচ, প্রশাসনিক উপরি খরচ।
(ঙ) প্রক্রিয়া ব্যয় (Process cost) :
অনেক প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি পণ্য উৎপাদিত হয়ে থাকে। পণ্য উৎপাদনের প্রাথমিক স্তর থেকে পরিণত পণ্যে রূপান্তরিত হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে পৃথক পৃথকভাবে ব্যয় নির্ণয় করতে হয়। একে প্রক্রিয়া ব্যয় হিসাব বলে। যেমন- কাপড় তৈরি করতে মিলে সুতা কাটা, বয়ন এবং ফিনিশিং ইত্যাদি প্রক্রিয়া ব্যবহৃত হয়।

(চ) প্রত্যক্ষ ব্যয় (Direct cost) :
যে সকল খরচ পণ্য উৎপাদনের সাথে সরাসরি জড়িত থাকে তাকে প্রত্যক্ষ খরচ বলে। যেমন- প্রত্যক্ষ কাঁচামাল, পরিবহন খরচ, প্রত্যক্ষ শ্রম ইত্যাদি ।
(ছ) পরিচালন ব্যয় হিসাব (Operating cost) :
যে সকল প্রতিষ্ঠানে পণ্য উৎপাদন করা হয় না, শুধুমাত্র জনসাধারণের সেবা প্রদান করা হয় সে সকল প্রতিষ্ঠানে যে পদ্ধতিতে হিসাব সংরক্ষণ করা হয় তাকে পরিচালনা ব্যয় হিসাব বলা হয়। এ পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠানের মোট ব্যয় নির্ধারণ করে সম্পাদিত কার্যের মোট একক দ্বারা ভাগ করে প্রতি একক ব্যয় নির্ণয় করা হয়। যেমন-মালামাল ও যাত্রী পরিবহন সংস্থা, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ সংস্থা ইত্যাদি ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।
(জ) প্রমাণ ব্যয় (Standard cost) :
যে পদ্ধতিতে কোন দ্রব্য উৎপাদন করতে কী পরিমাণ কাঁচামাল, শ্রম, ও উপরি খরচ ইত্যাদির প্রয়োজন হবে তা পূর্ব থেকে নির্ধারণ করা হয় এবং পূর্ব নির্ধারিত ব্যয়ের সাথে প্রকৃত ব্যয়ের তুলনা করে। উৎপাদন ব্যয় নির্ণয় করা হয়, তাকে প্রমাণ ব্যয় (standard cost) বলা হয় । অন্য কথায় বলা যায়, ভবিষ্যতে কোনো পণ্যের এক বা একাধিক একক উৎপাদন করতে যে কাঁচামাল, শ্রম ও পরোক্ষ খরচের প্রয়োজন হয়, বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে ঐ সমস্ত উপাদানের পূর্ব নির্ধারিত মানকেই প্রমাণ ব্যয় (Standard cost) বলা হয়।
