মূলধন বাজেটিং পুরাতন পদ্ধতি | উৎপাদন ব্যয় ও আর্থিক হিসাববিজ্ঞান, মূলধন বাজেটিং বলতে আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সেই প্রক্রিয়াকে বুঝায় যার সাহায্যে ফার্মসমূহ তাদের প্রধান প্রধান স্থায়ী সম্পত্তি মূল্যায়ন করে থাকে। প্রধান প্রধান স্থায়ী সম্পত্তির মধ্যে দালানকোঠা, মেশিনারী, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। ফার্মের স্থায়ী সম্পত্তিতে অর্থ বিনিয়োগ করবার জন্য কয়েকটি বিকল্প প্রকল্প থাকতে পারে।
মূলধন বাজেটিং প্রক্রিয়ার সাহায্যে বিকল্প প্রকল্পসমূহকে মূল্যায়ন করে সর্বোচ্চ লাভজনক প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। মূলধন বাজেটিং সিদ্ধান্তের দুটি দিক রয়েছে। প্রথমতঃ প্রকল্পের প্রত্যাশিত আয় বের করে বিকল্প প্রকল্পসমূহের আয়ের সঙ্গে তুলনা করা। দ্বিতীয়তঃ একজন উদ্যোক্তা প্রকল্পটি থেকে সর্বনিম্ন যে আয় প্রত্যাশা করেন তা বিবেচনা করে প্রকল্পটি গ্রহণ অথবা বাতিল করা।
Table of Contents
মূলধন বাজেটিং পুরাতন পদ্ধতি | উৎপাদন ব্যয় ও আর্থিক হিসাববিজ্ঞান | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

পুরাতন পদ্ধতি (Traditional Method) :
(i) মূলধন ফেরত কাল পদ্ধতি :
যে সময়ের মধ্যে বিনিয়োগকৃত অর্থ নগদে আদায় হয় বা ফেরত পাওয়া যায় তাকে পরিশোধ সময় বা নগদ পরিশোধ সময় বা পরিশোধ কাল বলা হয়। মূলধন ফেরত কাল নির্ণয় করার সূত্র :
মূলধন ফেরত কাল- বিনিয়োগকৃত মূলধন / বাৎসরিক মূলধন
পরিশোধ সময় পদ্ধতি খুব সহজ, এ পদ্ধতিতে সহজেই বিনিয়োগকৃত অর্থ আদায় হবার সময় জানা যায়। তবে উহাতে অর্থের সময় মূল্যকে বিবেচনা করা হয় না। ইহাতে প্রকল্পের আয়ুষ্কাল বিবেচিত হয় না। পরিশোধ সময়ের পরবর্তী সময়েও প্রকল্প কতদিন কার্যকরী থাকবে তা বিবেচিত হওয়া উচিত ।
(ii) বিনিয়োগের উপার্জন হার পদ্ধতি :
এ পদ্ধতিতে বিনিয়োগযোগ্য অর্থের উপর মুনাফা অর্জন ক্ষমতার সম্ভাব্য হার বের করা হয়। সে প্রকল্পের মুনাফা অর্জন ক্ষমতার হার অধিক সে প্রকল্প নির্বচান করা হয়। সাধারণত : কর পরবর্তী বার্ষিক গড় মুনাফাকে বিনিয়োগযোগ্য অর্থের পরিমাণ দ্বারা ভাগ করে প্রাপ্ত ভাগফলকে ১০০ দ্বারা গুণ করে উপার্জন হারকে শতকরায় প্রকাশ করা হয়। যে প্রকল্পের উপার্জন হার বেশি সেটিই গ্রহণযোগ্য, বিনিয়োগ উপার্জন হার নিরূপনের জন্য বিভিন্ন ধরনের মুনাফাকে প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। যেমন –
(i) কর ও অবচয় পূর্ববর্তী মুনাফা;
(ii) কর ও অবচয় পরবর্তী মুনাফা;
(iii) নীট নগদ প্রবাহ অর্থাৎ কর পরবর্তী নগদ প্রবাহ ।

