দুতরফা দাখিলা পদ্ধতি বিচার-বিশ্লেষণ | হিসাব লিখন বা দাখিলা পদ্ধতি, যে সকল কারণে দু’তরফা দাখিলা হিসাব পদ্ধতি এক তরফা দাখিলা হিসাব পদ্ধতি অপেক্ষা উন্নততর প্রমাণিত হয়েছে নিম্নে তা আলোচনা করা হলো :
Table of Contents
দুতরফা দাখিলা পদ্ধতি বিচার-বিশ্লেষণ | হিসাব লিখন বা দাখিলা পদ্ধতি | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

(১) সুনির্দিষ্ট নিয়ম কানুন :
দু’তরফা দাখিলা পদ্ধতিটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম-কানুনের উপর ভিত্তি করে গঠিত হয়। ফলে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ নির্ভরযোগ্য ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। পক্ষান্তরে, এক তরফা দাখিলা পদ্ধতি কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম-কানুনের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে না। ফলে এটি একটি অপূর্ণাঙ্গ ও অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ।
(২) হিসাবের গাণিতিক শুদ্ধতা যাচাই :
দু’তরফা দাখিলা পদ্ধতির মাধ্যমে হিসাব সংরক্ষণ করে ব্যবসায়ী রেওয়ামিল প্রস্তুত করে হিসাবের গাণিতিক শুদ্ধতা যাচাই করতে পারে। পক্ষান্তরে এক তরফা দাখিলা পদ্ধতির মাধ্যমে হিসাব সংরক্ষণ, করে রেওয়ামিল তৈয়ার করা যায় না, সেহেতু হিসাবের গাণিতিক শুদ্ধতাও যাচাই করা যায় না।
(৩) চুরি ও জালিয়াতি রোধ :
দু’তরফা দাখিলা পদ্ধতিতে হিসাব সংরক্ষণ করলে হিসাবের মধ্যস্থিত চুরি ও জালিয়াতির সম্ভাবনা খুব কম থাকে। তাছাড়া চুরি ও জালিয়াতি করলেও তা রেওয়ামিল তৈয়ার করে ধরা যায়। পক্ষান্তরে, এক তরফা দাখিলা পদ্ধতিতে হিসাব সংরক্ষণ করলে চুরি ও জালিয়াতি সহজে ধরা পড়ে না।
(৪) লাভ-ক্ষতি নির্ণয় :
দু’তরফা দাখিলা পদ্ধতিতে আয়-ব্যয়ের সমস্ত হিসাব সংরক্ষণ করা হয়। ফলে সুনির্দিষ্ট নিয়মে লাভ- ক্ষতির হিসাব তৈরি করে ব্যবসায়ের লাভ-ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা যায়। পক্ষান্তরে এক তরফা দাখিলা পদ্ধতিতে আয়-ব্যয়ের হিসাবগুলো রাখা হয় না। ফলে লাভ-ক্ষতির হিসাব তৈয়ার করে লাভ-ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা যায় না।
(৫) কারবারের সর্বাঙ্গীন আর্থিক অবস্থা নিরূপণ :
দু’তরফা দাখিলা পদ্ধতির মাধ্যমে হিসাব সংরক্ষণ করে কোনো নির্দিষ্ট সময় শেষে ক্রয়-বিক্রয় ও লাভ-লোকসান হিসাব এবং উদ্বৃত্তপত্র তৈরির মাধ্যমে ব্যবসায়ের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা নিরূপণ করা যায়। পক্ষান্তরে, এক তরফা দাখিলা পদ্ধেিত হিসাব সংরক্ষণ করে লাভ-ক্ষতি হিসাব এবং উদ্বৃত্তপত্র তৈরি করা যায় না। ফলে ব্যবসায়ের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা নিরূপণ করা যায় না ।
(৬) প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ :
দু’তরফা দাখিলা পদ্ধতি একটি বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে হিসাব সংরক্ষণ করা হয়। ফলে যে কোনো সময় ব্যবসায়ের প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারে। পক্ষান্তরে, এক তরফা দাখিলা পদ্ধতি অসম্পূর্ণ ও অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হওয়ার কারণে এ পদ্ধতি হতে ব্যবসায়ের প্রয়োজনীয় তথ্য জানা যায় না ।
(৭) খাতওয়ারী আয়-ব্যয় নির্ধারণ :
দু’তরফা দাখিলা হিসাব পদ্ধতিতে প্রতিটি হিসাব খাতের আয়-ব্যয় নির্ধারণ করা সহজ হয়। তাছাড়া বিগত বছরের ব্যয় ও আয়ের সাথে বর্তমান বছরের আয়-ব্যয়ের তুলনা করা যায়। কিন্তু এক তরফা দাখিলা পদ্ধতিতে এ সুযোগ নেই।
(৮) সম্পত্তি ও পরিসম্পদের হিসাব :
সম্পত্তিসমূহের উপর অবচয় ধার্যকরণ ও সুষ্ঠুভাবে উদ্বৃত্তপত্র প্রদর্শন করা যায় একমাত্র দু’তরফা দাখিলা হিসাব ব্যবস্থায়। যেহেতু দু’তরফা দাখিলা হিসাব ব্যবস্থায় সম্পত্তিসমূহের জন্য আলাদা হিসাব বহি সংরক্ষণ করা হয়, সেহেতু এর হিসাবও সহজতর হয়। কিন্তু এক তরফা দাখিলা পদ্ধতিতে তা সম্ভব নয় ।

(৯) প্রয়োগ সুবিধা :
দু’তরফা দাখিলা পদ্ধতিতে ছোট বড় সকল কারবারি ও অকারবারি প্রতিষ্ঠানেই হিসাব সংরক্ষণ করা যায়। কিন্তু এক তরফা দাখিলা পদ্ধতি কেবলমাত্র ব্যক্তিগত ও ক্ষুদ্রায়তনের প্রতিষ্ঠানের জন্য উপযোগী।
(১০) তথ্য সরবরাহ :
দু’তরফা দাখিলা পদ্ধতিতে যেহেতু বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে হিসাব সংরক্ষণ করা হয়, সেহেতু যে কোন সময় ব্যবসায়ের প্রয়োজনীয় তথ্য জানা যায়। পক্ষান্তরে, এক তরফা দাখিলা পদ্ধতি অসম্পূর্ণ ও অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হওয়ার কারণে এ পদ্ধতি হতে ব্যবসায়ের প্রয়োজনীয় তথ্য জানা যায় না। উপরিউক্ত আলোচনা হতে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, সবদিক থেকে এক তরফা দাখিলা হিসাব পদ্ধতি অপেক্ষা দু’তরফা দাখিলা হিসাব পদ্ধতি উন্নততর ও শ্রেষ্ঠ।
