দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির অসুবিধাসমূহ | হিসাব লিখন বা দাখিলা পদ্ধতি, প্রতিটি লেনদেনের দুটি পক্ষ থাকে। একটি পক্ষ সুবিধা গ্রহণ করে এবং অপরপক্ষ তা প্রদান করে। যে হিসাব ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রত্যেক লেনদেনের এই দ্বৈত সত্তাকে বিচার-বিশ্লেষণ করে একই সঙ্গে হিসাবের বহিতে একটিকে ডেবিট এবং অন্যটিকে ক্রেডিট করে লিপিবদ্ধ করা হয়, তাকে দু’তরফা দাখিলা পদ্ধতি বা Double Entry System বলে।
দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির অসুবিধাসমূহ | হিসাব লিখন বা দাখিলা পদ্ধতি | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে ইতালীয় ধর্মযাজক ও গণিতশাস্ত্রবিদ লুকা ডি প্যাসিওলি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ Suma de Arithmetica Geomatria Proportionet Proportionlita-তে দু’তরফা দাখিলা পদ্ধতিতে হিসাবরক্ষণের কলাকৌশল লিপিবদ্ধ করেন। দু’তরফা দাখিলা পদ্ধতির আলোচনা প্রসঙ্গে প্রখ্যাত হিসাবশাস্ত্র বিশারদ Mr. William Pickles বলেছেন,
“Double Entry System seeks to record every transaction in money or money’s worth in its double aspect-the receipt of a benefit by one account and the surrender of a like benefit by another account, the former entry being to the debit of the account receiving the later to the credit of the account surrendering.” অর্থাৎ দু’তরফা দাখিলা পদ্ধতিতে টাকা বা টাকায় পরিমাপযোগ্য প্রতিটি লেনদেনকে দ্বৈত সত্তায় প্রকাশ করা হয়।
একটি হিসাব দ্বারা সুবিধা গ্রহণ ও আরেকটি হিসাব দ্বারা সুবিধা প্রদান করা হয়। সুবিধা গ্রহণকারীর হিসাবটিকে ডেবিট দাখিলা এবং সুবিধা প্রদানকারীর হিসাবটিকে ক্রেডিট দাখিলা বলা হয় । আবার প্রখ্যাত হিসাবশাস্ত্রবিদ স্পাইসার ও প্যাগলার বলেন, “যে পদ্ধতিতে প্রতিটি লেনদেন, যা অর্থের মাপকাঠিতে পরিমাপ করা যায়, কোন এক বা একাধিক ব্যক্তি অপর ব্যক্তির নিকট হতে যে পরিমাণ সুবিধা পায় এবং অপর ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের সমান মূল্যের সুবিধা প্রদান করে, তাকে দু’তরফা দাখিলা পদ্ধতি বলে ।
উপরোক্ত আলোচনা ও সংজ্ঞাগুলো বিশ্লেষণের মাধ্যমে বলা যায় যে, দু’তরফা দাখিলা পদ্ধতি মোতাবেক প্রত্যেক লেনদেনের দ্বৈত সত্তাকে একই হিসাব বহিতে লিপিবদ্ধ করা হয়। তাই বলা যায়, যে হিসাব ব্যবস্থায় প্রতিটি লেনদেনের দ্বৈত সত্তাকে একই হিসাবের বহিতে দুটি পৃথক হিসাব খাতে লিপিবদ্ধ করা হয়, তাকে দু’তরফা দাখিলা হিসাব পদ্ধতি বলে ।

দু’তরফা দাখিলা পদ্ধতির অসুবিধাসমূহ
১। হিসাব সঠিকভাবে রাখা বেশ জটিল কাজ।
২। হিসাবের গোপনীয়তা রক্ষা করার ব্যাপারে সমস্যা দেখা দেয়।
৩। হিসাবে ভুলভ্রান্তির সম্ভাবনা বেড়ে যায় ।
8 | এ পদ্ধতি সময়, শ্রম ও ব্যয় সাপেক্ষ।
৫। হিসাব বইয়ের আকার ও কলেবর বৃদ্ধি পায়।
৬। এ পদ্ধতিতে হিসাবরক্ষণের জন্য বিশেষ জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির প্রয়োজন ।
