নগদান বইয়ের সংজ্ঞা | নগদান বই, ভূমিকা (Introduction): সাধারণভাবে নগদ বলতে আমরা হস্তস্থ ধাতব মুদ্রা বা কাগজী নোটকে বুঝে থাকি। কিন্তু হিসাববিজ্ঞানে ‘ব্যাংকে জমা টাকাসহ তাৎক্ষণিকভাবে হিসাবে জমা হবে এমন অর্থকেও নগদের অন্তর্ভুক্ত করে। তাৎক্ষণিকভাবে হিসাবে জমা হবে এমন দফার মধ্যে মুদ্রা, কাগজী টাকা ছাড়াও বাহকের চেক, ব্যাংক ড্রাফট, পেঅর্ডার, ভ্রমণকারীর চেক, মানি অর্ডার ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে প্রাপ্য বিল, বন্ড এবং মেয়াদি চেক যেহেতু ব্যাংক তাৎক্ষণিকভাবে হিসাবে জমা করে না, তাই এগুলো নগদের অন্তর্ভুক্ত নয়। সে বিবেচনায় হিসাবে প্রনের চেকও নগদের অন্তর্ভুক্ত নয়।
নগদান বইয়ের সংজ্ঞা | নগদান বই | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

নগদান বইয়ের সংজ্ঞা
সাধারণভাবে বলা যায়, যে বইতে নগদ টাকা-পয়সার আগমন-নির্গমন লিপিবদ্ধ করা হয় তা নগদান-বই। নগদান-বইতে কাগজী টাকা ছাড়াও বাহকের চেক, ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার, ভ্রমণকারীর চেক, মানি অর্ডার ইত্যাদি নগদ লেনদেন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। নগদান-বইতে যাবতীয় নগদে সম্পাদিত লেনদেন তারিখের ক্রমানুসারে লিপিবদ্ধ করা হয়।
এই বইতে ডেবিট বা বাম দিকে নগদ প্রাপ্তি এবং ক্রেডিট বা ডান দিকে নগদ পরিশোধ লিপিবদ্ধ করা হয়। নির্দিষ্ট সময় শেষে দু’দিকের পার্থক্য নির্ণয় করে নগদ তহবিলের পরিমাণ বের করা হয়। এখানে উল্লেখ্য যে, নগদ প্রাপ্তি অপেক্ষা নগদ প্রদানের পরিমাণ কখনোই বেশি হতে পারে না। তাই নগদান-বইয়ের সর্বাবস্থায় ডেবিট ব্যালেন্স হয়। উক্ত ডেবিট ব্যালেন্সের পরিমাণ নগদ তহবিলের (Cash in hand) সমান হয়। নিচে নগদান-বইয়ের উল্লেখযোগ্য জনপ্রিয় সংজ্ঞা প্রদত্ত হলো :
১। জন রুটলি (John Routly)-এর মতে, “যে বইতে কারবারের নগদ টাকার আদান-প্রদান লিপিবদ্ধ করে রাখা হয় তাকে নগদান-বই বলা হয়।”
২। ভৌমিক দত্ত স্যান্যাল-এর মতে, “নগদ লেনদেনসমূহকে লিপিবদ্ধ করবার জন্য হিসাবের যে প্রাথমিক বই ব্যবহৃত হয় তাকে নগদান-বই বলে ।
৩। অধ্যাপক চেম্বার (Prof Chamber)-এর মতে, “নগদ টাকার প্রাপ্তি ও বাট্টা সংক্রান্ত হিসাব যে বইতে রাখা হয়। তাকে নগদান-বই বলে।”
৪। এল. সি. ক্রপার-এর মতে, “একজন ব্যক্তি অর্থের আদান-প্রদান করে যে বইতে লিপিবদ্ধ করে রাখে তাকেই নগদান-বই বলে।”
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায় যে, হিসাবের যে বইতে কারবারের সকল প্রকার নগদ, চেক, ড্রাফট, মানি অর্ডার ইত্যাদি প্রাপ্তি ও পরিশোধ তারিখের ক্রমানুসারে লিপিবদ্ধ করা হয় এবং প্রত্যহ অথবা নির্দিষ্ট সময় অন্তর ব্যালেন্স নির্ণয় করে নগদ তহবিল বা ব্যাংক জমার পরিমাণ জানা যায় ঐ বইকে নগদান-বই বলে।
ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত লেনদেনসমূহের প্রকৃতি ও আয়তন অনুসারে নগদান-বইকে নিম্নোক্ত চার ভাগে ভাগ করা যায় যথা :

(১) এক ঘরা নগদান-বই (Single Column Cash Book)
(২) দু’ঘরা নগদান-বই (Double Column Cash Book)
(৩) তিন ঘরা নগদান-বই (Triple Column Cash Book)
(৪) খুচরা নগদান-বই (Petty Cash Book) ।
