নগদান বইয়ের প্রয়োজনীয়তা | নগদান বই, নগদান বইতে কারবার প্রতিষ্ঠানের নগদ লেনদেনসমূহ লিখে রাখা হয়। সেহেতু সকল প্রকার কারবার প্রতিষ্ঠানেই নগদান বইয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। নগদান বইতে হিসাব সংরক্ষণের মাধ্যমে কারবারি প্রতিষ্ঠানের নগদ লেনদেনসমূহের বিস্তারিত ফলাফল ও সার্বিক চিত্র নিরূপণ করা যায়। তাই সুষ্ঠু হিসাব সংরক্ষণের জন্য নগদান বই একখানি গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয় বই হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।
Table of Contents
নগদান বইয়ের প্রয়োজনীয়তা | নগদান বই | অ্যাকাউন্টিং-থিউরি

যে-কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দৈনিক অসংখ্য নগদ লেনদেন সম্পাদন করে। এ সমস্ত লেনদেন যদি প্রথমে জাবেদায় এন্ট্রি করে পরে খতিয়ানে স্থানান্তর করা হয় তবে এতে প্রচুর সময় ও শ্রম ব্যয় হবে। এছাড়া যে-কোন সময় নগদ তহবিলের পরিমাণও সহজে জানা যায় না। তাই নগদান বই পৃথকভাবে প্রস্তুতের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। নিচে নগদান বইয়ের গুরুত্ব আলোচনা করা হল :
(১) সময়ের সাশ্রয় :
নগদ লেনদেনের জন্য খতিয়ান বইতে পৃথকভাবে কোন নগদান হিসাব খুলতে হয় না আবার জাবেদা এন্ট্রিরও প্রয়োজন হয় না বিধায় নগদান বই প্রতিষ্ঠানের মূল্যবান সময় সাশ্রয় করে।
(২) শ্রমের সাশ্রয় :
জাবেদা এন্ট্রির এবং খতিয়ানে স্থানান্তর দুটি পৃথক কাজ না করে একটি বই সংরক্ষণের ফলে প্রচুর শ্রম সাশ্রয় ঘটে।
(৩) নগদ অর্থের নিয়ন্ত্রণ :
আধুনিক হিসাব শাস্ত্রবিদগণ নগদ অর্থের নিয়ন্ত্রণ যথাযথ ও কার্যকরী করার জন্য হিসাব বিভাগ থেকে নগদ বিভাগকে সম্পূর্ণ পৃথক করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। পৃথকভাবে নগদ বিভাগে নগদান বই সংরক্ষণের ফলেই নগদ অর্থের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ সুষ্ঠু ও সহজতর হয়।
(৪) নগদ তহবিলের উদ্বৃত্ত জানা :
পৃথকভাবে নগদান বই সংরক্ষণের ফলে যে-কোন সময় নগদ উদ্বৃত্তের পরিমাণ সহজে জানা যাবে।

(৫) তহবিল তছরূপ প্রতিরোধ :
নগদান বই প্রতিষ্ঠানকে তহবিল তছরূপের হাত থেকে রক্ষা করে। কেননা নগদ লেনদেন সংঘটিত হওয়ার সাথে সাথে তা নগদান বইতে লিপিবদ্ধ করা হয় এবং ক্যাশিয়ারকে নগদান-বইয়ের জেরের সাথে হাতে নগদ তহবিলের পরিমাণ প্রতিদিন মিলিয়ে দিতে হয়।
(৬) ভুল-ত্রুটি উদঘাটন :
নগদ লেনদেনগুলো তাৎক্ষণিকভাবে নগদান বইতে লিপিবদ্ধ করা হয়। ফলে নগদ টাকা গণনা করে কোন প্রকার ভুল-ত্রুটি তাৎক্ষণিকভাবেই উদ্ঘাটন করা যায়।
