দু’তরফা দাখিলা পদ্ধতির মূলনীতিসমূহ বা বৈশিষ্ট্য | হিসাব লিখন বা দাখিলা পদ্ধতি, দু’তরফা দাখিলা পদ্ধতি একটি বিজ্ঞানভিত্তিক, পূর্ণাঙ্গ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ হিসাব পদ্ধতি। এই হিসাব পদ্ধতির কতিপয় বিশেষ মূলনীতি বা বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা অন্য যে-কোন হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থায় অনুপস্থিত। দু’তরফা দাখিলা পদ্ধতির বিশেষ বৈশিষ্ট্যের জন্যই প্রখ্যাত হিসাববিজ্ঞানী S. W. Rowland বলেছেন, “দু’তরফা দাখিলা পদ্ধতি একটি কৃত্রিম বা সাধারণ গাণিতিক সূত্র নয় বরং এটি যে-কোন পক্ষের দৃষ্টিতে টাকা বা টাকার দ্বারা পরিমাপযোগ্য লেনদেনের গুরুত্বপূর্ণ প্রকৃতির প্রতিফলনের একটি সর্বোত্তম মাধ্যম।”
Table of Contents
দু’তরফা দাখিলা পদ্ধতির মূলনীতিসমূহ বা বৈশিষ্ট্য | হিসাব লিখন বা দাখিলা পদ্ধতি | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

দু’তরফা দাখিলা পদ্ধতির মূলনীতি বা বৈশিষ্ট্য নিচে বর্ণিত হলো :
(১) দ্বিপক্ষীয় ফলাফল :
দু’তরফা দাখিলা পদ্ধতির মূল বৈশিষ্ট্য হলো, প্রত্যেক লেনদেনের দ্বিপক্ষীয় ফলাফল। প্রত্যেক লেনদেনের ডেবিটের অনুরূপ সমপরিমাণ ক্রেডিট অথবা প্রত্যেক ক্রেডিটের জন্য সমপরিমাণ ডেবিট থাকবেই।
(২) প্রত্যেক লেনদেনে দাতা-গ্রহীতা সংশ্লিষ্ট :
প্রতিটি লেনদেনে একজন দাতা এবং একজন গ্রহীতা থাকবে। গ্রহীতা পক্ষ লেনদেনের মূল্য গ্রহণ করে এবং দাতা পক্ষ লেনদেনের মূল্য প্রদান করে।
(৩) কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা বা পৃথক সত্তা :
এই পদ্ধতিতে কারবার ও মালিক দুটি পৃথক সত্তা হিসাবে গণ্য হয়।
(৪) বিজ্ঞানসম্মত :
দু’তরফা দাখিলা পদ্ধতিই হল বিজ্ঞানসম্মত। এ পদ্ধতিতে হিসাবরক্ষণের ফলে যাবতীয় বৈজ্ঞানিক সূত্রসমূহ (ডেবিট-ক্রেডিট নির্ণয় সূত্র, হিসাববিজ্ঞানের নীতি, সমীকরণ) সঠিকভাবে প্রয়োগ করা যায়।
(৫) পূর্ণাঙ্গ হিসাব ব্যবস্থা :
এ পদ্ধতিতে হিসাবরক্ষণের ফলে হিসাবচক্রের যাবতীয় ধাপ; যথা : জাবেদা লিখন, খতিয়ান প্রস্তুত, রেওয়ামিল প্রস্তুত, আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত ও আর্থিক বিবরণীর বিশ্লেষণ ইত্যাদি সঠিকভাবে সম্পাদিত হয়।
(৬) নির্ভরযোগ্য হিসাব লিখন ব্যবস্থা :
এ পদ্ধতিতে ব্যক্তি, সম্পত্তি ও নামিক হিসাবসমূহ লিপিবদ্ধ করা হয় বলে লেনদেনের বিস্তারিত ও নির্ভরযোগ্য সব তথ্য জানা যায়।

(৭) নির্ভুল হিসাব ব্যবস্থা :
দু’তরফা দাখিলা পদ্ধতিতে হিসাব সংরক্ষণ করে হিসাবের গাণিতিক শুদ্ধতা সঠিকভাবে যাচাই করা যায় (রেওয়ামিল প্রস্তুত করে)।
(৮) সমমূল্যের লেনদেন :
প্রতিটি লেনদেনে দাতা যে পরিমাণ সুবিধা প্রদান করে গ্রহীতাও ঠিক সে পরিমাণ সুবিধা গ্রহণ করে।
নিচে উদাহরণের সাহায্যে দু’তরফা দাখিলা পদ্ধতির মূলনীতি বা বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হলো :
উদাহরণ :
মনে করি, ফাহিমের নিকট হতে ১০,০০০ টাকার আসবাবপত্র নগদে ক্রয় করা হল। এই লেনদেনের ফলে কারবারে আসবাবপত্র এসেছে এবং বিনিময়ে নগদ টাকা কারবার হতে চলে গিয়েছে। এ ক্ষেত্রে, আসবাবপত্র হিসাবকে ১০,০০০ টাকার জন্য ডেবিট করে নগদান হিসাবকে ১০,০০০ টাকার জন্য ক্রেডিট করা হবে। উপরিউক্ত আলোচনা হতে বুঝা যায়, প্রতিটি লেনদেনে দুটি পক্ষ থাকবে। এর একটিকে ডেবিট করলে সাথে সাথে অন্যটিকে সমপরিমাণ মূল্যের জন্য ক্রেডিট করতে হয়।
