জাবেলার ছক বিশ্লেষণ | জাবেদা, হিসাববিজ্ঞান চক্রের প্রথম ধাপ হল জাবেদাভুক্তকরণ। লেনদেন সংঘটিত হওয়ার পর সর্বপ্রথম জাবেদাভুক্ত করা হয় এবং তারপর খতিয়ানে স্থানান্তর করা হয়। কারবারে দৈনন্দিন সংঘটিত হয় অসংখ্য লেনদেন।
দুই তরফা দাখিলা পদ্ধতির নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি লেনদেনের সংশ্লিষ্ট দুটি হিসাব খাতের একটিকে ডেবিট এবং অপরটিকে সমপরিমাণ অর্থে ক্রেডিট করে তারিখের ক্রমানুসারে একটির পর একটি করে ধারাবাহিকভাবে সর্বপ্রথম জাবেদায় লেখা হয়। আবার প্রত্যেকটি লেনদেন কীভাবে সংঘটিত হয়েছে তার প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ও প্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যা জাবেদায় লেখা হয়। অতঃপর কারবারে সংশ্লিষ্ট যে কেউ জাবেদায় সংরক্ষিত প্রতিটি লেনদেনের প্রকৃতি ও ফলাফল সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পায় ।
Table of Contents
জাবেলার ছক বিশ্লেষণ | জাবেদা | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

জাবেদাকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়ে থাকে। বিশেষ জাবেদাগুলোর জন্য ভিন্ন ভিন্ন ছক ব্যবহার করা হয়। তবে তাত্ত্বিক শিক্ষার জন্য জাবেদাকে শ্রেণিভুক্ত না করে একটি মাত্র জাবেদা ব্যবহার করা হয়। একে সাধারণ জাবেদা হিসাবে অভিহিত করা হয়। জাবেদার হুক বলতে আমরা সাধারণ জাবেদার ছককে বুঝি।
জাবেদার পৃষ্ঠাকে লম্বালম্বিভাবে পাঁচটি ঘরে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা-
(১) তারিখের ঘর :
জাবেদার বাম দিকে প্রথম ঘরটি তারিখের ঘর। তারিখের ঘরে প্রথমে সাল ও মাস লিখতে হয়। তার নিচে যে যে তারিখে লেনদেন সংঘটিত হয়েছে তা পরপর সাজিয়ে লিখতে হয়।
(২) বিবরণের ঘর :
জাবেদার দ্বিতীয় ঘরের নাম বিবরণের ঘর। এ ঘরে লেনদেনের পক্ষ বা হিসাব খাতের নাম লিখতে হয়। যে হিসাবটি ডেবিট হবে তার নাম প্রথম লাইনে বাম দিক ঘেঁষে লিখতে হয় এবং যে হিসাবটি ক্রেডিট হবে তার নাম, দ্বিতীয় লাইনে একটু ডান দিকে সরিয়ে লিখতে হয়। হিসাব খাত দু’টি লেখার পর তার নিচে কী কারণে উক্ত লেনদেনটি সংঘটিত হয়েছে তা সংক্ষেপে লিখতে হবে। এ সংক্ষিপ্ত বিবরণীকে Narration বলে।
(৩) খতিয়ান পৃষ্ঠা ঘর :
এ ঘরটিতে সংশ্লিষ্ট শিরোনামের হিসাবটি খতিয়ানের কত পৃষ্ঠায় অবস্থিত সে পৃষ্ঠা নম্বর লিখতে হয়। তবে খতিয়ান তৈরি করার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত এ ঘরটি খালি থাকে। জাবেদা এন্ট্রি খতিয়ানে স্থানান্তরের সময় এ পৃষ্ঠা নম্বর লিখা হয়।

(৪) ডেবিট টাকার ঘর :
এ ঘরে লেনদেনের ডেবিট হিসাব খাতের টাকার পরিমাণ লেখা হয় ।
(৫) ক্রেডিট টাকার ঘর :
এ ঘরে ক্রেডিট হিসাব খাতের টাকার পরিমাণ লেখা হয়।
