চূড়ান্ত হিসাবের সংজ্ঞা | চূড়ান্ত হিসাব, চূড়ান্ত-হিসাব বলতে ঐসব হিসাব ও বিবরণীকে বুঝায় যার সাহায্যে কোন নির্দিষ্ট সময়ান্তে একটি কারবার-প্রতিষ্ঠানের লাভ- লোকসান নির্ণয় করা যায় এবং নির্দিষ্ট সময়ের শেষ তারিখে কারবারের আর্থিক অবস্থা নির্ণয় করে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহকে ধারণা দেওয়া সম্ভব হয় । একমাত্র চূড়ান্ত-হিসাব কারবারের সঠিক আর্থিক অবস্থা নির্ধারণের কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে।
কোনো একটি নির্দিষ্ট সময় শেষে কারবার-প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত লাভ-লোকসান এবং সঠিক আর্থিক অবস্থা নির্ণয় করার জন্য যে সমস্ত হিসাব ও বিবরণী প্রস্তুত করা হয় তাকেই সমষ্টিগতভাবে চূড়ান্ত-হিসাব বলে। অতএব, “চূড়ান্ত-হিসাব হল একটা বিবরণী যা দ্বারা একটি প্রতিষ্ঠানের হিসাব প্রস্তুত করে অর্জিত লাভ বা ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়সহ সংশ্লিষ্ট হিসাব সময়ের শেষ তারিখে আর্থিক অবস্থার বিবরণী প্রস্তুত করা হয়।”
Table of Contents
চূড়ান্ত হিসাবের সংজ্ঞা | চূড়ান্ত-হিসাব | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

(ক) চূড়ান্ত-হিসাবের সংজ্ঞা :
(১) টি.এস.গেওয়েলের মতে,
“চূড়ান্ত-হিসাব হলো একটি বিবরণী যার দ্বারা কোন নির্দিষ্ট সময়ে একটি প্রতিষ্ঠানের অর্জিত মুনাফা বা ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়সহ সংশ্লিষ্ট হিসাব কালের শেষ মুহূর্তের আর্থিক বিবরণী তৈরি করে প্রদর্শন করা হয়।”
(২) জনৈক হিসাব শাস্ত্রবিদের মতে,
“উৎপাদন হিসাব, ক্রয়-বিক্রয় হিসাব, লাভ-ক্ষতি হিসাব ও উদ্বৃত্তপত্রের সমষ্টিই হচ্ছে চূড়ান্ত-হিসাব।”
(খ) উদ্বৃত্তপত্রের সংজ্ঞা :
(১) অধ্যাপক মুনটিজ-এর মতে,
“উদ্বৃত্ত পত্র হল গতিহীন বা স্থীর ভাণ্ডারগুলোর বিবরণী যাকে হঠাৎ তোলা আর্থিক অবস্থার আলোক চিত্র বলা যেতে পারে।”
(২) AICPA-এর মতে,
“উদ্বৃত্তপত্র হলো হিসাববিজ্ঞানের নীতি অনুযায়ী হিসাবের বইপত্র সঠিকভাবে বা ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ করার পর উদ্বৃত্ত টেনে আনা ডেবিট ও ক্রেডিট ব্যালেন্সগুলোর একটি সংক্ষিপ্তসার বা ছক কাটা বিবরণী ।” সামগ্রিকভাবে বলা যায় যে, চূড়ান্ত-হিসাব হলো হিসাববিজ্ঞান কার্যক্রমের প্রায় শেষ পর্যায় যা হিসাব মেয়াদান্তে হিসাব তথ্যের সংক্ষিপ্ত বিবরণীস্বরূপ । হিসাব চক্রে চূড়ান্ত হিসাবের অবস্থান হচ্ছে নিম্নরূপ :

