চলতি কার্যের মূল্যায়ন | উৎপাদন ব্যয় ও আর্থিক হিসাববিজ্ঞান | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

চলতি কার্যের মূল্যায়ন | উৎপাদন ব্যয় ও আর্থিক হিসাববিজ্ঞান, প্রতিষ্ঠানের পণ্য উৎপাদন করতে হলে বিভিন্ন ধরনের প্রক্রিয়া ব্যবহার করতে হয়। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি প্রক্রিয়াতেই স্বাভাবিকভাবে কিছু ক্ষয়-ক্ষতি হবে তা ধরে নেয়া হয় ৷ প্রতিষ্ঠানের নীতি নির্ধারকগণ পূর্ব হতেই ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করেন। প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ যদি পূর্ব নির্ধারিত ক্ষতির পরিমাণ অপেক্ষা কম হয় তাহলে যে পরিমাণ ক্ষতি কম হয় তাকে অস্বাভাবিক লাভ (Abnormal gain) বলা হয়। সাধারণত অস্বাভাবিক কারণে এরূপ লাভ হয়ে থাকে।

চলতি কার্যের মূল্যায়ন | উৎপাদন ব্যয় ও আর্থিক হিসাববিজ্ঞান | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

 

চলতি কার্যের মূল্যায়ন | উৎপাদন ব্যয় ও আর্থিক হিসাববিজ্ঞান | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

 

চলতি কার্যের মূল্যায়ন

কোনো পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পণ্য উৎপাদিত হয়ে থাকে। একটি নির্দিষ্ট সময় শেষে উৎপাদন ব্যয় হিসাব তৈরি পর্যন্ত ও কোনো একটি উৎপাদন প্রক্রিয়ার পণ্য তৈরির পর্যায়ে থাকতে পারে। সে কারণেই প্রতিটি প্রক্রিয়ার পণ্য তৈরির ব্যয় ও চলতি কার্যের উৎপাদন ব্যয় পৃথকভাবে নিরূপণ করতে হয়। চলিত কার্যের উৎপাদন ব্যয় নির্ণয় করার সময় প্রথমে অসম্পূর্ণ দ্রব্য কতটুকু সম্পূর্ণ হয়েছে তা নির্ণয় করতে হয় ।

সাধারণত উৎপাদন কার্য তত্ত্বাধানকারী চলতি কার্যসম্পাদনের পরিমাণ নিরূপণ করেন। তারপর চলতি কার্যকে দ্রব্যের সমতুল্য উৎপাদনে (Equivalent production) এ উপস্থাপন করা হয়। যেমন একটি গার্মেন্টস শিল্পে ৮,০০০টি জামার শতকরা ৫০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হলে সেগুলোকে ৪,০০০টি তৈরি জামার সমতুল্য উৎপাদন ধরা হয়। এভাবে চলতি কার্যকে তৈরি মাল (Finished goods) এ উপস্থাপন করে একক উৎপাদন ব্যয় (per unit cost) নির্ণয় করতে হয়।

 

উৎপাদন ব্যয়ের বিশ্লেষণ 

উৎপাদনের মোট ব্যয়ের বিভিন্ন ভাগের প্রত্যেকটিকে ব্যয়ের একটি উপাদান বলা হয়। মোট উৎপাদন ব্যয়কে বিভিন্ন উপাদানে ভাগ করার কাজকে উৎপাদন ব্যয় বিশ্লেষণ বলা হয়। উৎপাদনের মোট ব্যয়ের উপাদানকে নিম্নলিখিতভাবে বিশ্লেষণ করা যায় :

(১) প্রত্যক্ষ মাল + প্রত্যক্ষ শ্রম + অন্যান্য প্রত্যক্ষ খরচ = মুখ্য ব্যয় (Prime Cost ) 

(২) মুখ্য ব্যয় + কারখানার উপরিব্যয় = উৎপাদন ব্যয় (Cost of Production)

(৩) উৎপাদন ব্যয় + প্রশাসনিক এবং বিক্রয় ও বণ্টন উপরিব্যয় = মোট ব্যয় (Total Cost) 

(৪) মোট ব্যয় + মুনাফা / (ক্ষতি) = বিক্রয়মূল্য ।

 

চলতি কার্যের মূল্যায়ন | উৎপাদন ব্যয় ও আর্থিক হিসাববিজ্ঞান | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

 

মুখ্য-ব্যয়ের সঙ্গে কারখানা উপরিব্যয় যোগ করলে উৎপাদন ব্যয় (Cost of Production) হয়। উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে প্রশাসনিক ও বিলিবণ্টন উপরিব্যয় খরচ যোগ করলে মোট ব্যয় (Total Cost) বা বিক্রয় ব্যয় (Cost of Sales) হয় । মোট ব্যয়ের সঙ্গে মুনাফা যোগ বা ক্ষতি বিয়োগ করলে বিক্রয় মূল্য (Sale Price) পাওয়া যায়।

Leave a Comment