ঘটনা এবং লেনদেনের মধ্যে সম্পর্ক| লেনদেন, ঘটনার সাথে লেনদেনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। লেনদেন উৎপত্তি হয় ঘটনা থেকে। ঘটনা সংঘটিত না হয়ে লেনদেন হতে পারে না। তাই সাধারণভাবে বলা যায় যে, “প্রতিটি ঘটনাই লেনদেন নয়, কিন্তু প্রতিটি লেনদেনই ঘটনা।”
ঘটনা এবং লেনদেনের মধ্যে সম্পর্ক | লেনদেন | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

ঘটনার সাথে অর্থ সংশ্লিষ্ট থাকতে পারে আবার নাও থাকতে পারে। যেসব ঘটনার সাথে অর্থ সংশ্লিষ্ট থাকে কেবল সেই ঘটনাগুলোই লেনদেন বলে বিবেচিত হয়; যেমন— পণ্য ক্রয় করার আদেশ প্রদান একটি কাজ এবং ঘটনা। কিন্তু এর সাথে অর্থ সংশ্লিষ্ট নেই বলে আমরা ক্রয় আদেশকে লেনদেন বলতে পারি না। কিন্তু ঐ আদেশের ফলশ্রুতিতে যখন পণ্য সরবরাহ করা হয় তখন তাকে ঘটনা এবং লেনদেন বলে চিহ্নিত করা যায়। কারণ পণ্য সরবরাহের সাথে অর্থ সংশ্লিষ্ট আছে।
ঘটনাকে অর্থ দ্বারা পরিমাপ করা যেতে পারে আবার অর্থ দ্বারা পরিমাপযোগ্য নাও হতে পারে; যেমন— এক ভরি স্বর্ণ ক্রয় করা। এটি একটি ঘটনা। কারণ এখানে স্বর্ণ ক্রয় করার কার্য সম্পাদন হয়েছে। পাশাপাশি এটি একটি লেনদেন কারণ ক্রয়ের ঘটনাটি অর্থ দ্বারা পরিমাপযোগ্য; যেমন— এক ভরি স্বর্ণের দাম যদি ৬০০০ টাকা হয় তবে এখানে স্বর্ণের পরিমাপ অর্থ দ্বারা পরিমাপযোগ্য। তাই এটি একটি ঘটনা এবং লেনদেন।
ঘটনার ফলে আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে আবার অবস্থার পরিবর্তন নাও হতে পারে। যে ঘটনায় আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন হয় তাকে লেনদেন বলে; যেমন- দেনাদার থেকে টাকা পাওয়া গেলে আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে, নগদ টাকা পাওয়া যায়। অর্থাৎ নগদ টাকার বৃদ্ধি ঘটে। এটি একটি লেনদেন।

তাই বলা যায় যে, প্রতিটি লেনদেন আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটায়, কিন্তু প্রতিটি ঘটনা অর্থ দ্বারা পরিমাপ করা যায় না বিধায় তা লেনদেন নয়। তবে একটি ক্ষেত্রে এ নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটে। যখন কোন ঘটনা না ঘটেও লেনদেন হতে পারে; যেমন- অনাদায়ী পাওনা সঞ্চিতি নির্ধারণ করা। এখানে ঘটনা ঘটেনি কিন্তু তাকে লেনদেন বিবেচনা করে হিসাবে লিপিবদ্ধ করা হয়। এই একটি ক্ষেত্র ছাড়া সর্বক্ষেত্রে প্রতিটি লেনদেনকে ঘটনা বলা যায়। কিন্তু প্রতিটি ঘটনাই লেনদেন নয় ।
