নিম্নলিখিত পদগুলো ব্যাখ্যা কর : আয় বর্ষ, কর নির্ধারণী বছর বা কর বর্ষ, এনবিআর – নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “অ্যাকাউন্টিং থিউরি” বিষয়ের “আয়কর” বিভাগের একটি পাঠ।
আয়কর, বহিঃশত্রুর হাত হতে দেশ রক্ষা, অভ্যন্তরীণ শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনসাধারণের কল্যাণের জন্য সরকারকে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। এই অর্থ যে সমস্ত উৎস হতে সংগ্রহ করা হয় তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলো আয়কর।
Table of Contents
নিম্নলিখিত পদগুলো ব্যাখ্যা কর : আয় বর্ষ, কর নির্ধারণী বছর বা কর বর্ষ, এনবিআর

১। আয় বর্ষ (Income Year) :
আয়কর আইন অনুসারে সাধারণত একটি নির্দিষ্ট বছরের আয়ের এর উহার পরবর্তী বছরে কর ধার্য করা হয়। যে বছরের আয়ের উপর কর কার্য করা হয় তাকে আয় বর্ষ বলে। ১৯২২ সালের আয়কর আইনে আয় বর্ষকে পূর্ববর্তী বছর বলা হত। ১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশে একে আয় বর্ষ বলা হয়েছে। আয়কর অধ্যাদেশের ২(৩৫) ধারা অনুসারে, “কর নির্ধারণী বছরের ঠিক পূর্ববর্তী আর্থিক বছরকে আয় বর্ষ বলে।” এমতাবস্থায় আয়বর্ষ বলতে বুঝায়
(১) কর নির্ধারণী বছরের অব্যবহিত পূর্বের আর্থিক বছরকে। যেমন- ২০১৬-২০১৭ (১ লা জুলাই ২০১৬ হতে ৩০শে জুন ২০১৭) কর নির্ধারণী বছর হলে তার অব্যবহিত পূর্বের বছর ২০১৫-২০১৬ হবে আয় বর্ষ।
(২) আর্থিক বছর ৩০শে জুন তারিখে শেষ না হয়ে অন্য কোন তারিখে শেষ হলে করদাতার ইচ্ছানুযায়ী উক্ত তারিখে সমাপ্ত পূর্ববর্তী ১২ মাস সময়কালকে আয় বছর হিসাবে গণ্য করা যাবে।
(৩) নতুন কারবার, পেশা বা বৃত্তির ক্ষেত্রে:
(ক) নতুন কারবার, পেশা বা বৃত্তির আরম্ভ করার তারিখ হতে আর্থিক বছরের শেষ দিন অর্থাৎ ৩০শে জুন পর্যন্ত হিসাবকাল আয় বছর হতে পারে। এই ক্ষেত্রে হিসাবকাল ১২ মাসের কম হলেও চলবে।
(খ) ব্যবসায় আরম্ভ হবার তারিখ হতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত সময়কালের শেষ তারিখ পর্যন্ত সময়কাল আয়-বছর হতে পারে।
(গ) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড যদি সময়কাল ঠিক না করে দেয় তবে ব্যবসায় আরম্ভের তারিখ হতে ৩০শে জুনের মধ্যে যে তারিখ পর্যন্ত হিসাব তৈরি করা হয় সে সময়কাল আয় বছর হতে পারে।
(৪) করদাতা কোন অংশীদারি কারবারের অংশীদার হলে উক্ত কারবারের যেটি আয় বছর হবে কারবারের মুনাফার অংশের জন্য ঐ ব্যক্তির আয় বছরও এটাই হবে।
২। কর নির্ধারণী বছর বা কর বর্ষ (Assessment Year or Tax Year) :
যে আর্থিক বছরে কর ধার্য করা হয় তাকে কর নির্ধারণী বছর বলে। সাধারণত আয়কর আইনের বিধান অনুসারে কোন বছরের আয়ের উপর পরবর্তী আর্থিক বছরে আয়কর নির্ধারিত হয় এবং উক্ত পরবর্তী আর্থিক বছরে একজন করদাতা তার আয় বর্ষের উপার্জনের উপর কর প্রদান করেন। এ জন্যেই আয় বর্ষের অব্যবহিত পরবর্তী বছরই কর নির্ধারণী বছর। আয়কর অধ্যাদেশের ২(১) ধারা অনুসারে, “প্রত্যেক বছরের ১লা জুলাই হতে আরম্ভ করে ১২ মাস সময়কালকে কর নির্ধারণী বছর বলে।”
৩। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (National Board of Revenue NBR):
জতীয় রাজস্ব বোর্ড হলো বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় রাজস্ব কর্তৃপক্ষ নিচে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো :
১। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশ নং 76 (The National Board of Revenue Order. 1972) এর ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়।
২। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কাস্টমস, মূল্য সংযোজন কর ও আয়কর বিষয়ক রাজস্ব নীতি প্রণয়ন ও প্রশাসনের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ।
৩। এটি বাংলাদেশে সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের অন্তর্ভুক্ত।

৪। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রধান চেয়ারম্যান,
একই সাথে তিনি অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বাংলাদেশে শুল্ক-কর নীতি প্রণয়নের দায়িত্ব পালন করে। বাংলাদেশ সরকারের রাজস্বের প্রধান তিনটি উৎস হলো- দুই প্রকার পরোক্ষ কর যথা- আমদানি শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর এবং দুই প্রকার প্রত্যক্ষ কর যথা- আয় কর এবং সম্পন্ন কর। এছাড়া কতিপয় পণ্যের দেশজ উৎপাদনের ক্ষেত্রে আবগারি শুল্ক আদায় করা হয়। উপরন্তু প্রয়োজনীয় রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যে আমদানি পর্যায়ে এবং স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক আদায় করা হয়ে থাকে।
সরকার ঘোষিত উন্নয়ন পরিকল্পনায় বিবৃত ও সামাজিক লক্ষ্যসমূহ স্বল্পতম সময়ে অর্জনের উদ্দেশ্য হিসেবে কৃষিখাতকে অগ্রাধিকার প্রদানের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, উৎপাদনমুখী শিল্পের প্রসার ও রপ্তানি বৃদ্ধি, দেশজ শিল্পের বিকাশ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের দ্বারা দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র থেকে মুক্তি দেয়া এবং সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন ইত্যাদি সামনে রেখে প্রতি অর্থবছরে প্রণীত জাতীয় বাজেটের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ কর ও পরোক্ষ করের বিষয়ে প্রশাসনিক ও আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়ে থাকে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এই সব প্রশাসনিক ও আইনী পদক্ষেপ প্রণয়ন করে।
