উদ্বৃত্ত পত্রের বিবেচ্য হিসাব | চূড়ান্ত হিসাব | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

উদ্বৃত্ত পত্রের বিবেচ্য হিসাব | চূড়ান্ত হিসাব, চূড়ান্ত হিসাব বলতে ঐসব হিসাব ও বিবরণীকে বুঝায় যার সাহায্যে কোন নির্দিষ্ট সময়ান্তে একটি কারবার প্রতিষ্ঠানের লাভ- লোকসান নির্ণয় করা যায় এবং নির্দিষ্ট সময়ের শেষ তারিখে কারবারের আর্থিক অবস্থা নির্ণয় করে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহকে ধারণা দেওয়া সম্ভব হয় । একমাত্র চূড়ান্ত হিসাব কারবারের সঠিক আর্থিক অবস্থা নির্ধারণের কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে।

কোনো একটি নির্দিষ্ট সময় শেষে কারবার প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত লাভ-লোকসান এবং সঠিক আর্থিক অবস্থা নির্ণয় করার জন্য যে সমস্ত হিসাব ও বিবরণী প্রস্তুত করা হয় তাকেই সমষ্টিগতভাবে চূড়ান্ত হিসাব বলে। অতএব, “চূড়ান্ত হিসাব হল একটা বিবরণী যা দ্বারা একটি প্রতিষ্ঠানের হিসাব প্রস্তুত করে অর্জিত লাভ বা ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়সহ সংশ্লিষ্ট হিসাব সময়ের শেষ তারিখে আর্থিক অবস্থার বিবরণী প্রস্তুত করা হয়।” 

উদ্বৃত্ত পত্রের বিবেচ্য হিসাব | চূড়ান্ত হিসাব | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

১। প্রারম্ভিক মজুদ পণ্য : সংশ্লিষ্ট হিসাব কালের শুরুতে যে কাচমাল মজুদ থাকে তাকে প্রারম্ভিক মজুদ পণ্য বলে। প্রারম্ভিক Trading Account, Profit and Loss Account and Balance Sheet):” মজুদ পণ্য ক্রয়-বিক্রয় হিসাবের ডেবিট দিকে লেখা হয়। বা সম্পন্ন মাল ক্রয় করে। মাল ক্রয় সর্বদাই ক্রয়-

২। মাল ক্রয় : সাধারণ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পরিণত বিক্রয় হিসাবের ডেবিট দিকে বসে।

৩। মাল ফেরত বা পণ্য ক্রয় ফেরত : ক্রয় করা পণ্য যদি ফরমায়েশ অনুযায়ী না হয় অথবা অন্য যে কোনো কারণে বিক্রেতার নিকট পণ্য ফেরত দেয়া হয় তাকে ক্রয় ফেরত বলে। পণ্য ক্রয় ফেরত ক্রয় বিক্রয় হিসাবের ডেবিট পার্শ্বে মাল ক্রয় হতে বাদ দিয়ে দেখাতে হয়। কারখানায় প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত শ্রমিকদের পারিশ্রমিককে বুঝায়। এটি ক্রয়-বিক্রয় হিসাবের

৪। মজুরি: মজুরি বলতে ডেবিটের দিকে বসে।

৫। আমদানি : বিদেশ হতে পণ্য ক্রয় করে ক্রেতার দেশে আনার সময় যে শুল্ক প্রদান করা হয় তাকে আমদানি শুল্ক  বলে|

৬। জাহাজ ভাড়া : পণ্য আমদানী বা ক্রয় করতে জাহাজ ভাড়া বাবদ যে অর্থ ব্যয় করা হয় তাকে জাহাজ ভাড়া বলে। এটি বলে । আমদানী শুল্ক ক্রয়-বিক্রয় হিসাবের ডেবিট দিকে লিখতে হবে। ক্রয়-বিক্রয় হিসাবের ডেবিট করা হয়। 

৭। আন্তঃপরিবহন : বিদেশ হতে পণ্য ক্রয় করে বা দেশের অভ্যন্তরে পণ্য ক্রয় করে ক্রেতার কারবার প্রতিষ্ঠানে আনার জন্য যে ভাড়া দেয়া হয় তাকে আন্তঃপরিবহন বলা হয়। এটি ক্রয়-বিক্রয় হিসাবে ডেবিট করতে হয়।

৮। বেতন : অফিসে নিযুক্ত কর্মচারীকে মাসিক ভিত্তিতে যে পারিশ্রমিক দেয়া হয় সেটাই বেতন। এটি প্রতিষ্ঠানের পরোক্ষ মুনাফা জাতীয় ব্যয় । এটি লাভ-ক্ষতি হিসাবের ডেবিট দিকে বসে। 

৯। কর ও অভিকর : সরকারকে নির্দিষ্ট সমায়াপ্তে যে অর্থ প্রদান করা হয় তাকে কর ও অভিকর বলে। একে লাভ-ক্ষতি হিসাবে ডেবিট করতে হয়। 

১০। তাপ ও জ্বালানি (Fule): এটি বলতে গ্যাস, পানি ও কাঠ কয়লাকে বুঝায়। এ জাতীয় ব্যয় উৎপাদনের সংগে জড়িত বিধায় এটিকে ক্রয়-বিক্রয় হিসাবের ডেবিটের দিকে দেখানো হয়।

 

উদ্বৃত্ত পত্রের বিবেচ্য হিসাব | চূড়ান্ত হিসাব | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

 

১১। মাল বিক্রয় (Sakes) : নগদে ও বাকীতে পণ্য বিক্রয়ের সমষ্টিকে বিক্রয় বলা হয়। মাল বিক্রয় সব সময় ক্রয়-বিক্রয় হিসাবের ক্রেডিট দিকে বসে।

১২। মাল বিক্রয় ফেরত বা আস্ত ফেরত (Sales Return) : বিক্রিত মালের যে অংশ ক্রেতার নিকট ফেরত আসে তাকে বিক্রয় ফেরত বলা হয়। মাল বিক্রয় ফেরত ক্রয়-বিক্রয় হিসাবের ক্রেডিট দিকের ইনার কলামের মাল বিক্রয় হতে বিয়োগ দিয়ে দেখাতে হয়।

১৩। ডক চার্জ (Dock Charge) : এটি দুভাবে ব্যবসায়ীকে দিতে হয়। প্রথমত বিদেশ থেকে পণ্য ক্রয়ের সময় এবং দ্বিতীয়ত বিদেশে মাল রপ্তানীর সময়। আমদানী সংক্রান্ত ডক চার্জ ক্রয়-বিক্রয় হিসাবে ডেবিট হবে। কিন্তু রপ্তানীর সময় ডক চার্জ বিক্রয় সম্পর্কীত খরচ বলে লাভ-ক্ষতি হিসাবে ডেবিট হবে। 

১৪। কমিশন (Commission) : প্রতিনিধিত্বমূলক কার্যাবলী নির্বাহ করার জন্য যে প্রারিশ্রমিক প্রাপ্ত বা প্রদত্ত হয় তাকে কমিশন বলে। প্রাপ্ত কমিশন কারবারের আয় এবং প্রদত্ত কমিশন কারবারের ব্যয়। প্রাপ্ত কমিশন লাভ ক্ষতি হিসাবে ক্রেডিট করা হয় এবং প্রদত্ত কমিশন ডেবিট করা হয়। 

১৫। প্রাপ্ত বাট্টা : অনেক সময় পাওনাদারগণ তাদের পাওনা টাকা আদায়ের সময় যে অর্থ ছাড় দেয় হয় তাকে প্রাপ্ত বাট্টা “বলে । এটি কারবারের লাভ তাই একে লাভ লোকসান হিসাবে ক্রেডিট করা হয়।

১৬। প্রদত্ত বাট্টা : দেনাদারের নিকট হতে পাওনা টাকা আদায় করার সময় যে ছাড় দেয়া হয় তাকে প্রদত্ত বাট্টা বলে। এটি কারবার প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি, তাই এটিকে লাভ-ক্ষতি হিসাবে ডেবিট করা হয় ।

১৭। ভাড়া (Rent) : আফস ঘর ব্যবহার করার জন্য এর মালিককে নির্দিষ্ট সময় পর যে অর্থ দেয়া হয় তাকে ভাড়া বলে। এটি কারবারের পরোক্ষ খরচ সেহেতু এটিকে লাভ লোকসান হিসাবে ডেবিট করা হয়। 

১৮। বিজ্ঞাপন খরচ : কোনো উৎপাদিত পণ্যের প্রতি জনগণের চাহিদা বৃদ্ধির জন্য প্রচার কার্য বা বিজ্ঞাপনের আশ্রয় নেয়া। এটি কারবারের একটি পরোক্ষ ব্যয়। সুতরাং এটিকে লাভ-লোকসান হিসাবে ডেবিট করা হয়।

১৯। সুদ (Interast) : সুদ প্রাপ্ত ও প্রদত্ত উভয় প্রকার হতে পারে। প্রাপ্ত সুদ কারবারের আয়, পক্ষান্তরে প্রদত্ত সুদ কারবারের ব্যয়। সুতরাং প্রদত্ত সুদ লাভ-ক্ষতি হিসাবের ডেবিট দিকে এবং প্রাপ্ত সুদ ক্রেডিট দিকে বসাতে হয়। 

২০। ডাক, তার, টেলিফোন ও বিদ্যুৎ খরচ : এ প্রত্যেকটি দফা কারবারের পরোক্ষ খরচ, সুতরাং এগুলো লাভ-লোকসান

২১। মেরামত খরচ : কারবারের ব্যবহৃত কলকজ্বা ও যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র, দালানকোঠা ইত্যাদি মেরামত করার জন্য যে অর্থ ব্যয় করা হয় তাকে মেরামত খরচ বলা হয়। এটি কারবারের পরোক্ষ ব্যয় তাই লাভ-ক্ষতি হিসাবের ডেবিট দিকে বসে। 

২২। শিক্ষানবীশ সেলামি : কোনো কারবার প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণরত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে উক্ত কারবার প্রতিষ্ঠান সেলামি বাবদ যে অর্থ গ্রহণ করে তাকে শিক্ষানবিশী সেলামি বলা হয়। এটি কারবার প্রতিষ্ঠানের আয় সুতরাং এটি লাভ-ক্ষতি হিসাবে ক্রেডিট করা হয়। 

২৩। অনাদায়ী দেনা (Bad Debts) : দেনাদার বৃন্দের নিকট হতে পাওনা টাকার যে অংশ আদায় করা সম্ভব হয় না তাকেই অনাদায়ী দেনা বলা হয় । এটি কারবারের পরোক্ষ খরচ। তাই একে লাভ-ক্ষতি হিসাবে ডেবিট করা হয় । 

২৪। ছাপা ও মনিহারি (Printing and Stationary) : অফিসের কাজে ব্যবহারের জন্য কাগজ, কালি, কলম, পেনসিল ইত্যাদি ক্রয় করা হয় এগুলোকে ছাপা ও মনোহারি দ্রব্য বলে। এটি পরোক্ষ খরচ বিধায় একে লাভ-ক্ষতি হিসাবে ডেবিট করা হয়।

২৫। যাতায়াত খরচ (Travelling Expenses) : কারবারের কাজের জন্য বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত বাবদ যে অর্থ ব্যয় করা হয় তাকে যাতায়াত খরচ বলে। এটি কারবারের পরোক্ষ খরচ তাই এটিকে লাভ-ক্ষতি হিসাবে ডেবিট করতে হয়। 

২৬। রপ্তানি শুল্ক (Export Tax) : মাল বিদেশে বা মাল বিক্রয়ের সময় যে শুল্ক দেয়া হয় তাকে রপ্তানি শুল্ক বলে। এ শু বিক্রয় সম্পর্কিত বলে লাভ-ক্ষতি হিসাবের ডেবিট দিকে বসে।

২৭। অফিস খরচ ও কারবারি খরচ : অফিস ও কারবারি খরচ প্রকৃতপক্ষে একই ধরনের। অফিসের কার্যাদি পরিচালনার জন্য দৈনন্দিন যে ছোটখাট খরচ করা হয় সেগুলো অফিস খরচ এবং কারবারের সাধারণ কাজকর্ম পরিচালনার জন্য যে খরচ হয় সেগুলো কারবার খরচ। উভয় প্রকার খরচই লাভ-ক্ষতি হিসাবে ডেবিট করতে হয়। কিন্তু একই রেওয়ামিলে যদি উভয় প্রকার খরচ দেয়া থাকে তবে কারবার খরচকে প্রত্যক্ষ খরচ মনে করে ক্রয়-বিক্রয় হিসাবে ডেবিট করতে হয়। 

২৮। বিনিয়োগের সুদ (Interest on Investment) : অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট টাকা বিনিয়োগ করে বিনিয়োগকৃত অর্থের উপর যে সুদ পাওয়া যায় সেটাই বিনিয়োগের সুদ। এটি কারবারের লাভ। বিনিয়োগের সুদ লাভ- ক্ষতি হিসাবের ক্রেডিট দিকে বসে। 

২৯। ঋণের সুদ (Interest on Loan) : কারবার প্রতিষ্ঠান তৃতীয় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে গৃহীত ঋণের উপর যে সুদ প্রদান করে তাকে ঋণের সুদ বলে। ঋণের সুদ কারবারের ক্ষতি তাই এটি লাভ-ক্ষতি হিসাবের ডেবিট পার্শ্বে বসে ।

৩০। উত্তোলনের সুদ (Interest on Loan) : মালিক নিজ প্রয়োজনে কারবার হতে নগদ টাকা ও মাল উত্তোলন করে থাকে তাকে উত্তোলন বলে। এর উপর সুদ ধার্য করলে কারবারের লাভ বিধায় উত্তোলনের সুদ লাভ ক্ষতি হিসাবের ক্রেডিট দিকে দেখানো হয়।

৩১। অবচয় (Depriciation) : সম্পত্তি ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে এর ক্রমিক মূল হ্রাস পায়, একে অবচয় বলে। অবচয় কারবারের ক্ষতি তাই এটি লাভ-ক্ষতি হিসাবের ডেবিট দিকে বসে। 

৩২। আয়কর (Income Tax) : কারবার প্রতিষ্ঠানের আয়ের উপর সরকারকে আয়কর প্রদান করতে হয়। আয় কর কারবারের জন্য ক্ষতি। কিন্তু এক মালিকানা কারবারের ক্ষেত্রে আয়কর মালিকের ব্যক্তিগত খরচ বলে বিবেচিত হয়। এরূপ ক্ষেত্রে আত্মকর রেওয়ামিলে দেয়া থাকে। তবে উক্ত আয়কর উদ্বৃত্তপত্রে মালিকের মূলধন হতে বাদ দিয়ে দেখাতে হবে।

৩৩। বহিঃপরিবহন/বিক্রয় পরিবহন (Carriage out Ward) : খরিদ্দারের নিকট পণ্য সরবরাহ করতে যে খরচ হয় তাকে  বহিঃপরিবহন বলে। এটি কারবারের একটি পরোক্ষ খরচ। সুতরাং একে লাভ-ক্ষতি হিসাবে ডেবিট করা হয়। 

৩৪। মূলধনের সুদ (Interest on Capital) : মালিক কর্তৃক সরবরাহকৃত মূলধনের উপর যদি সুদ দেয়া হয় তবে তাকে মূলধনের উপর সুদ বলে। এটি কারবারের ক্ষতি তাই একে লাভ-ক্ষতি হিসাবে ডেবিট করতে হয়।

৩৫। অনাদায়ী দেনা সঞ্চিতি (Reserve for Bad Debts) : মোট পাওনা টাকার যে অংশের আদায় সম্বন্ধে ব্যবসায়ী সন্দিহান থাকে তাকে অনাদায়ী দেনা সঞ্চিতি বলে । যদি রেওয়ামিলে এ অনাদায়ী দেনা সঞ্চিতি দেয়া থাকে তবে বুঝতে হবে উক্ত সঞ্চিতি অতীত বছরের জন্য করা হয়েছে। তাই বর্তমান বছরের লাভ-ক্ষতি হিসাবে একে ক্রেডিট করতে হবে। 

৩৬। মূলধন (Capital) : কারবারের মালিক যে অর্থ কারবারে বিনিয়োগ করে তাকে মূলধন বলে। মূলধন কারবারের দায়। তাই মূলধনকে উদ্বৃত্তপত্রের দায় পার্শ্বে দেখানো হয়। 

৩৭। উত্তোলন (Drawing) : অনেক সময় মালিক কারবার হতে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে নগদ অর্থ ও পণ্য উত্তোলন করে তাকে উত্তোলন বলা হয়। উত্তোলন উদ্বৃত্ত পত্রের দায় পার্শ্বে মূলধন থেকে বিয়োগ করে দেখাতে হয়। 

৩৮। কর্জ বা ঋণ (Loan) : ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান হতে টাকা ধার করে তাকে কর্জ বা ঋণ বলে। ঋণ উদ্বৃত্ত পত্রের দায়ের দিকে বসে।

৩৯। বিবিধ পাওনাদার (Sundry Creditors) : বাকীতে যাদের নিকট থেকে কারবার মাল ক্রয় করে তাদেরকে বিবিধ পাওনাদার বলা হয়। বিবিধ পাওনাদারের পাওনা টাকা কারবারের নিকট দায়। তাই এটি উদ্বৃত্তপত্রের দায় পার্শ্বে দেখানো হয়। চূড়ান্ত হিসাব 

৪০। প্রদেয় বিল (Bills payable) : মালিক ব্যতীত কোনো ব্যক্তি কর্তৃক উপস্থাপিত বিলে স্বীকৃতি প্রদানের জন্য যে দেনা। থাকে তাকে প্রদেয় বিল বলা হয়। প্রদেয় বিল উদ্বৃত্তপত্রের দায়ের দিকে বসে। 

 

উদ্বৃত্ত পত্রের বিবেচ্য হিসাব | চূড়ান্ত হিসাব | অ্যাকাউন্টিং থিউরি

 

৪১। ব্যাংক ওভার ড্রাফট (Bank Over Draft) : ব্যাংকের সাথে সমঝোতা করে অনেক সময় কারবার প্রতিষ্ঠান ব্যাংকে তাদের গচ্ছিত টাকা অপেক্ষা বেশি টাকা উঠাতে পারে। একে ব্যাংক ওভার ড্রাফট বা জমাতিরিক্ত বলা হয়। এটি কারবারের দায় বলে উদ্বৃত্তপত্রের দায়ের দিকে দেখানো হয় । 

৪২। সাধারণ সঞ্চিতি (General Reserve) : কারবারের ভবিষ্যতে কোনো ক্ষতি বা আর্থিক দুর্যোগ দেখা দিলে তা মোকাবিলা করার জন্য মুনাফার কিছু অংশ আলাদা তহবিলে জমা রাখা হয় একে সাধারণ সঞ্চিতি বলা হয়। এটি কারবারের দায় বিধায় একে দায়ের দিকে দেখানো হয় । ইত্যাদিকে সম্পত্তি বলে।

৪৩। সম্পত্তিসমূহ ( Perperties) : ভূমি, দালানকোঠা, আসবাবপত্র, কলকব্জা ও যন্ত্রপাতি উপরিউক্ত সম্পত্তিগুলো উদ্বৃত্তপত্রের সম্পত্তির দিকে দেখানো হয় । 

৪৪। বিবিধ দেনাদার (Sundry Debtors) : যে সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নিকট বাকীতে মাল বিক্রয় করা হয় তাদেরকে বিবিধ দেনাদার বলে । এদেরকে উদ্বৃত্তপত্রের সম্পত্তির দিকে দেখানো হয়। 

৪৫। নগদ তহবিল (Cash in Hand) : যে তারিখে উদ্বৃত্তপত্র তৈরি করা হয় সে তারিখে কারবারের ক্যাশ বাক্সে যে টাকা নগদ জমা থাকে নগদ তহবিল বলে। এটি কারবারের সম্পদ। তাই এটিকে উদ্বৃত্তপত্রের সম্পত্তির দিকে দেখানো হয়। 

৪৬। ব্যাংকে জমা (Cash at Bank) : ব্যাংকে যে টাকা জমা রাখা হয় তাকে ব্যাংকে জমা বলে। এটি কারবারের সম্পত্তি বিধায় উদ্বৃত্তপত্রের সম্পত্তির দিকে দেখানো হয়। 

৪৭। প্রাপ্য বিল (Bills Recievable) : প্রস্তুতকৃত বিলে স্বীকৃতি প্রাপ্তির মাধ্যমে যে অর্থ কারও নিকট পাওয়ার থাকে তাকে প্রাপ্য বিল বলে। এটি কারবারের সম্পত্তি বিধায় উদ্বৃত্তপত্রের সম্পত্তির দিকে দেখানো হয় ।

৪৮। সমাপনী মজুদ পণ্য : বছরের শেষ দিন কারবার প্রতিষ্ঠানের নিকট যে পণ্য অবিক্রিত অবস্থায় থেকে যায় তাকে সমাপনী মজুদ পণ্য বলা হয়। সমাপনী মজুদ পণ্য প্রথমে ক্রয়-বিক্রয় হিসাবের ক্রেডিট দিকে এবং পরবর্তীতে উদ্বৃত্তপত্রের সম্পত্তির দিকে দেখানো হয়।

৪৯। বকেয়া খরচ (Out Standing Expenses) : যে খরচের টাকা এখনো পরিশোধ করা হয় নাই তাকে বকেয়া খরচ বলে। এটি কারবারের দায় বিধায় বকেয়া খরচকে উদ্ধৃতপত্রের দায়ের দিকে দেখানো হয়।

৫০। অগ্রিম প্রদত্ত খরচ (Prepaid Expenses) : কারবার প্রতিষ্ঠানের পরবর্তী হিসাব কালের খরচ যদি চলতি হিসাব কালের মধ্যে পরিশোধ করা হয় তাকে অগ্রিম প্রদত্ত খরচ বলে । এটি একটি সম্পত্তি বিধায় একে উদ্বৃত্তপত্রের সম্পত্তির দিকে দেখানো হয় ।

৫১। অস্পর্শনীয় সম্পত্তি (Intangible Assets) : যে সকল সম্পত্তি দেখা যায় না এমনকি ধরা ছোয়া যায় না। তাদেরকে অস্পর্শনীয় সম্পত্তি বলা হয়। যেমন- সুনাম, কপিরাইট, ট্রেডমার্ক ইত্যাদি এগুলোকে উদ্বৃত্তপত্রের সম্পত্তির দিকে দেখানো হয়। 

Leave a Comment