আয়করের সংজ্ঞা – নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “অ্যাকাউন্টিং থিউরি” বিষয়ের “আয়কর” বিভাগের একটি পাঠ। আয়কর, বহিঃশত্রুর হাত হতে দেশ রক্ষা, অভ্যন্তরীণ শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনসাধারণের কল্যাণের জন্য সরকারকে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। এই অর্থ যে সমস্ত উৎস হতে সংগ্রহ করা হয় তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলো আয়কর।
Table of Contents
আয়করের সংজ্ঞা

আয়কর আইন অনুসারে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আয়ের উপর যে কর ধার্য করা হয় তাকে আয়কর বলে। করদাতা আয় করমুক্ত আয়ের সীমা অতিক্রম করলে আয়কর আইনের আওতায় কর প্রদান করতে হয়। অর্থ আইন ২০১২ এর মাধ্যমে ২০১২-১৩ কর বছরে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের মধ্যে মহিলা করদাতা ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের পুরুষ করদাতা এবং প্রতিবন্ধী করদাতা ব্যতীত অন্যান্য ব্যক্তি করদাতার করমুক্ত আয়ের সীমা ২,০০,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মহিলা করদাতা, ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের পুরুষ করদাতার জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২,২৫,০০০ টাকা। প্রতিবন্ধী করদাতার ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়ের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২,৭৫,০০০ টাকা। তবে, কোম্পানির ক্ষেত্রে আয়ের কোন করযোগ্য ন্যূনতম সীমা নেই। বিভিন্ন মোকদ্দমার সিদ্ধান্তে আয়করের যে সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে তা নিম্নরূপ :
Peter Merchant Ltd. Vs stedeford মোকদ্দমার সিদ্ধান্তে
বলা হয়েছে, “Income tax is a tax on income” অর্থাৎ আয়কর আয়ের উপর একটি কর।
বেঙ্গল কয়লা কোম্পানি লিঃ বনাম জর্নাদন কিশোর লাল সিং
(১৯৩৬) মোকদ্দমার রায়ে বলা হয়েছে, “Income tax is a tax on income and on anything else. If is one tax not a collection of taxes essentially distinct.” অর্থাৎ আয়কর আয়ের উপর একটি কর এবং অন্য কিছুর উপর কর নয়। এটা একটি একক কর, ভিন্ন ভিন্ন করের সমষ্টি নয়।

স্টেট ব্যাংক (১৯৪১) মোকদ্দমার
রায়ে বিচারপতি বলেন, “আয়কর একজন ব্যক্তির উপর ধার্যকৃত কর। এই কর যে আয়ের উপর নির্ধারণ করা হয় তার বিপক্ষে এটা ব্যয় নয়।” উল্লেখ্য, এখানে ব্যক্তি কথাটি ব্যাপক অর্থে বুঝানো হয়েছে। সুতরাং বলা যায় যে, আয়বর্ষে একজন করদাতার বিভিন্ন উৎস হতে যে আয় হয় তা করযোগ্য ন্যূনতম সীমা অতিক্রম করলে আয়কর আইন অনুসারে যে কর ধার্য করা হয় তাকে আয়কর বলে ।
