অর্থায়নের লক্ষ্য এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা বা “১ম অধ্যায় (chapter 1)” আজকের ক্লাসের আলোচ্য বিষয়। অর্থায়নের সূচনা – অর্থায়নের লক্ষ্য এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা [ Initiation Of Financing ] ক্লাসটি এইচএসসি’র ফাইন্যান্স ১ম পত্র (HSC Finance 1st Paper) এর সিলেবাসের অংশ। ইচএসসি’র ফাইন্যান্স ১ম পত্র (HSC Finance 1st Paper) বা একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর ফাইন্যান্স ১ম পত্র (Class 11-12 Finance 1st Paper)” এর “১ম অধ্যায় (chapter 1)” এ পড়ানো হয়।
অর্থায়নের লক্ষ্য এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা
সামাজিক দায়বদ্ধতা হল একধরনের ব্যবসায়িক শিষ্ঠাচার বা নীতি যা সমাজের প্রতি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালনকে ব্যবসার নিয়মের মধ্য অন্তর্ভুক্ত করে। একটি ব্যবসা নৈতিক ও আইনগত ভাবে পরিচালিত হলেই এর সমস্ত দায়মুক্তি হয়েছে তা বলা যায় না। যে পরিবেশে বা যে সমাজে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে সেই সমাজের প্রতি প্রতিষ্ঠানের কিছু দায়বদ্ধতা জন্মায়।

বর্তমান যুগে অধিকাংশ বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই সিএসআর বা সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে সমাজের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে অংশগ্রহণ করছে এবং তাদের শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশের কিছু অংশ এই খাতে বরাদ্দ রাখছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই দায়বদ্ধতা পূরণের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতায় নেমে পরে এবং নিয়ম প্রতিপালনের উর্ধে চলে যায়। সেক্ষেত্রে সরকার আইন করে সেখানে সিএসআর নিয়ন্ত্রণ করে।
সামাজিক দায়বদ্ধতা শব্দটি পশ্চিমা বিশ্বে ১৯৬০ থেকে ১৯৭০ সালের দিকে প্রচলিত হওয়া শুরু করে। বড় বড় ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এই ধরনের দায়বদ্ধতা সম্পর্কে মানুষকে ধারণা দেওয়ার জন্য স্টেকহোল্ডার কথাটির প্রচলন করে। এই শব্দটির অর্থ হল সমাজের সেই সকল মানুষ যারা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম দ্বারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে প্রভাবিত হন।
প্রবক্তাদের মতে বড় কোম্পানিগুলো এই ধরনের দর্শন নিয়ে পরিচালিত হলে দীর্ঘমেয়াদে তাদের প্রতিষ্ঠান মুনাফায় পরিচালিত হয়, অপরদিকে সমালোচকদের মতে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা দেখাতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় তাদের প্রধান কার্যকলাপ থেকে মনোযোগ হারিয়ে ফেলে এবং এতে করে ব্যবসার যথেষ্ট পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়।
২০০০ সালে প্রকাশিত ম্যাকউইলিয়াম এবং সেইগেলের গবেষণাপত্রে তারা প্রায় ১০০০ শিক্ষাবিদের উদ্ধৃতি তুলে ধরে দেখান যে সামাজিক দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে কিছুটা হলেও প্রভাবিত করেছে। তার মতে প্রতিষ্ঠানসমূহ সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রকাশ করতে গিয়ে যে পরিমাণ অর্থ খরচ করেছে তা যদি গবেষণা ও উন্নয়নে খরচ করা হত তাহলেই বরং সমাজ এর থেকে বেশি উপকৃত হত।

